দেবারতি মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি অভিযোগ করেন জি বাংলার আসন্ন ধারাবাহিক 'সতীপীঠ কালীঘাট'-এর গল্প লিখে দিয়েছেন। স্টোরিলাইন, গবেষণা, ইত্যাদি সমস্ত তাঁরই করা। আর সেই বাবদ তিনি একটি পারিশ্রমিক দাবি করেছিলেন। কিন্তু মাসের পর মাস পেরোলেও তিনি তাঁর যোগ্য পারিশ্রমিক পাননি। এই অভিযোগের পর দিন ঘুরতে না ঘুরতেই পাল্টা পোস্ট করলেন প্রযোজক সুব্রত রায়। তিনি জানালেন লেখিকাকে তাঁর প্রাপ্য টাকা দিয়েছেন। একই সঙ্গে আরও একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। সুব্রত রায়ের পোস্টের জবাবে আজকাল ডট ইনের কাছে মুখ খুললেন দেবারতি মুখোপাধ্যায়।
সুব্রত রায় এদিন তাঁর পোস্টে একাধিক স্ক্রিনশট জুড়ে লেখেন, 'সামাজিক মাধ্যমে লেখিকা শ্রীমতি দেবারতি মুখোপাধ্যায় আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তা আমি ফেসবুকে পড়ার পর নিজের বক্তব্যও সামনে এনেছি। আমি সকলকে জানাতে চাই, দেবারতি দেবী 'কালীক্ষেত্র কালীঘাট'-এর কাহিনি লেখার জন্য (যা আদতে ব্যবহারই করা হয়নি) যে অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন (১ লক্ষ টাকা), সেই টাকা আমি আজ তাঁর অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিলাম। উনি তা পেয়ে গিয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। সব প্রমাণ এই লেখার সঙ্গে দেওয়া রইল। জানিয়ে রাখি, দেবারতি 'সতীপীঠ কালীঘাট' লেখেননি, ড্রাফট হিসেবে লিখেছেন 'কালীক্ষেত্র কালীঘাট'। 'সতীপীঠ কালীঘাট'-এর সঙ্গে ওঁর দূরদুরান্তেও কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর পাঠানো।ড্রাফট চ্যানেল অবধি যায়ওনি। আগে তো প্রযোজকের পছন্দ হবে। তারপর তো চ্যানেলের কাছে তা যাবে। তাই এই ঘটনার মধ্যে জি বাংলা চ্যানেলকে টেনে আনা অমূলক। তারা এর সঙ্গে জড়িত নয়। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে সেই বিষয়ে আবারও বলে রাখি, আমি দেবারতি মুখোপাধ্যায়কে যে ই-মেলটি পাঠিয়েছিলাম, তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, তাঁর লেখা গল্পটি অনুমোদিত হওয়ার পরেই তাঁকে স্টোরি রাইটার হিসেবে নিযুক্ত করা হবে। তিনি যে গল্পের খসড়া জমা দিয়েছিলেন, তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি অনুমোদিত হয়নি এবং সে সিদ্ধান্ত তাঁকে অল্প সময়ের মধ্যেই জানিয়েও দেওয়া হয়। টেলিভিশন জগতে গল্পের ধারণা বা খসড়া গ্রহণ বা বাতিল হওয়া সৃজনশীল প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক ও প্রচলিত অংশ। প্রতিষ্ঠিত শিল্প-রীতি অনুযায়ী, যে গল্পের খসড়া অনুমোদিত হয়নি, তার জন্য প্রযোজকের পারিশ্রমিক প্রদান করার কোনও বাধ্যবাধকতা থাকে না।' তিনি আরও লেখেন, 'আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, শ্রীমতি মুখোপাধ্যায় জমা দেওয়া খসড়ার কোনও অংশই এই ধারাবাহিকে ব্যবহার করা হয়নি। ফলে তাঁর গল্প চুরি বা প্ল্যাজিয়ারিজম করা হয়েছে—এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। ধারাবাহিকটি সম্প্রচারিত হলে বিষয়টি সকলের কাছেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। অনুমোদিত না হওয়া একটি গল্পের খসড়ার জন্য তাঁকে কোনও পারিশ্রমিক দেওয়ার আইনি বা চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা আমার ছিল না। তবুও, তাঁর সময় ও পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং সম্পূর্ণ সদিচ্ছা থেকে আমি তাঁকে কিছু অর্থ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছিলাম। আমি যে অর্থ তাঁকে পারিশ্রমিকের কারণে দিতে চেয়েছিলাম তিনি তাঁর দ্বিগুণ আমার কাছে দাবি করেন। প্রথমত, টাকা তাঁকে আমার দেওয়ারই কথা নয়। দ্বিতীয়ত উনি যে অঙ্কের টাকা আমার কাছে দাবি করেন তা এই মুহূর্তে দেওয়াও আমার পক্ষে বেশ কঠিন ছিল। তবুও আমি তাঁকে চেক দিই এবং বলি, কয়েকদিন পরে তা ব্যাঙ্কে জমা করতে। কেননা আমার অত টাকা এই মুহূর্তে গচ্ছিত নেই। উনি তা না করে সময়ের আগেই চেক ব্যাঙ্কে ফেলে আসেন। ফলে, চেক বাউন্স হয় এবং সামাজিক মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ আনেন। তবে, আমি এবার সকলকে জানাতে চাই, আমি ওঁকে ওঁর দাবি করা অর্থ দিয়ে দিলাম।'
সুব্রত তাঁর পোস্টে লেখেন, 'এই বিবৃতি দেওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হল সামাজিক মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে, তার যথাযথ জবাব আমি দেবো। আরও জানিয়ে রাখি, দেবারতি মুখোপাধ্যায় এবং আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবে জি বাংলা চ্যানেল জড়িত নয়। এই বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত ই-মেল এবং অন্যান্য যোগাযোগের সম্পূর্ণ নথি আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু পেশাগত আলোচনার সময় আদান-প্রদান হওয়া ব্যক্তিগত যোগাযোগ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা আমি সমীচীন বলে মনে করি না। এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যথাযথ আইনগত ও পেশাগত প্রক্রিয়া বিদ্যমান। আমি আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছি এবং সকলের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, শুধুমাত্র এক পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছবেন না। একই সঙ্গে, জনসমক্ষে আমার বিরুদ্ধে করা এই মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সমস্ত অধিকার আমার আছে। আমি সবসময় লেখক ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সম্মান করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হবে। দেবারতি মুখোপাধ্যায়কে তাঁর আগামী সব কাজের জন্য আগাম শুভেচ্ছা জানাই।' (পোস্টদাতার বানান অপরিবর্তিত, বর্তমানে পোস্টটি ডিলিটেড)
সুব্রত রায়ের এই পোস্টের পর লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় আজকাল ডট ইনের তরফে। তিনি তাঁর প্রাপ্য টাকা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে দেবারতি বলেন, "আমি যখন জিকে জানালাম, তখন চ্যানেলের তরফে ওঁকে চাপ দেওয়া হয়। তারপর উনি আমাকে একটা টাকা দিয়েছেন। উনি বলছেন উনি নাকি আমার গল্পটা নেননি। কিন্তু সেটার প্রমাণ এখনও আমার কাছে নেই। যখন প্রোমো আসবে সিরিয়ালটির তখন সেটা দেখে আমি অ্যাকশন নেব। তখন ঠিক করব আইনি ব্যবস্থা নেব কি নেব না।"
দেবারতি এদিন কথা প্রসঙ্গে বলেন, "আমি এরকম একাধিক ব্যক্তির থেকে মেল পেয়েছি, যাঁরা ওঁর প্রতারণার শিকার। মানে যাঁদের ওঁর থেকে টাকা পাওয়ার কথা তাঁরা পাননি। আমি যেহেতু বলেছি চেক বাউন্স করা একটা নন-বেলেবেল অফেন্স, সেহেতু উনি একটা নেগোশিয়েট করার চেষ্টা করছেন। আপাতত আমি প্রোমোর অপেক্ষা করছি, দেখতে চাই আমার গল্পের সঙ্গে কতটা কী মিলছে না মিলছে। তারপর সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব আমি।"
সুব্রত রায় জানিয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধে দেবারতি মুখোপাধ্যায় মানহানিকর মন্তব্য করেছেন, তিনি তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারেন, যদি চান। এই বিষয়ে লেখিকার সাফ জবাব, "হ্যাঁ নিক না। আমি যেমন বলেছি যে আইনি পদক্ষেপ নেব, উনিও নিক। বাংলা সাহিত্যিকদের লেখা নিয়ে সিনেমা করে, টাকা না দেওয়ার ইতিহাস বহু পুরনো। উনি বিগত কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত টালবাহানা চালিয়ে গিয়েছেন, চেক বাউন্স করেছে। সব কিছুর পর আমি চ্যানেলকে সবটা জানিয়েছি। ওঁর যদি এতে মনে হয় পদক্ষেপ নেবেন তো নিন। আমি তো ওঁকে কোনও পার্সোনাল অ্যাটাক করিনি।"















