বহু বিতর্ক পেরিয়ে, সেন্সর বোর্ডের চোখরাঙানি সামলে ওটিটি-তে মুক্তি পেয়েছিল দিলজিৎ দোসাঞ্জের ছবি ‘সতলুজ’। কিন্তু অজানা কারণে আচমকাই ভারতে বন্ধ হয়ে গেল ছবির প্রদর্শন। তারপরেই মুখ খুললেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। আর সেখান থেকেই শুরু হল ফের বড়সড় বিতর্ক! ইনস্টাগ্রাম লাইভে এসে অনুরাগীদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে অভিনেতা দেখেন, কমেন্ট বক্স ভরে গিয়েছে একটাই বার্তায়— ছবি সরিয়ে নেওয়ার আগেই অনেকেই সেটি ডাউনলোড করে ফেলেছেন।
অনুরাগীদের সেই প্রতিক্রিয়ায় খুশি হয়ে দিলজিৎ বলেন, এত মানুষ যে আগে থেকেই ছবিটি ডাউনলোড করে রেখেছেন, তা জেনে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, যাঁদের কাছে ছবিটি রয়েছে, তাঁদের অন্যদের সঙ্গেও ডাউনলোড লিঙ্ক ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি, যাতে 'সতলুজ' আবার জি ফাইভ(ZEE5)-এ ফিরতে না পারা পর্যন্ত আরও বেশি মানুষ ছবিটি দেখতে পারেন। একইসঙ্গে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছবিটি দেখার আবেদনও জানান অভিনেতা।
এরপর ছবিটির দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রসঙ্গও তোলেন দিলজিত। তিনি জানান, গত তিন-চার বছর ধরে এই ছবি মুক্তির জন্য তাঁরা নিরন্তর লড়াই করেছেন। কিন্তু সেই সময় পাঞ্জাবি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বা বলিউড— কারও কাছেই সমর্থন বা সাহায্য চাননি তাঁরা।
দিলজিতের কথায়, "গত তিন-চার বছর ধরে আমরা এই ছবি মুক্তির জন্য লড়াই করেছি। কিন্তু কাউকে গিয়ে বলিনি আমাদের ছবি মুক্তি পেতে সাহায্য করুন। নিজের ইন্ডাস্ট্রির কাছেও নয়, বলিউডের কাছেও নয়। এই লড়াই আমরা নিজেরাই লড়েছি।"
তিনি আরও বলেন, "প্রত্যেক মানুষের কাছেই নিজের লড়াইটাই সবচেয়ে বড়। যে যে পেশাতেই থাকুক না কেন, সবাই নিজের নিজের যুদ্ধ লড়ছে। আমরাও নিজেদের ক্ষমতাতেই ছবিটা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত মুক্তি দিতে পেরেছি।"
পরিচালক হানি ত্রেহানের এই ছবিটির নাম প্রথমে ছিল 'ঘাল্লুঘেরা'। পরে সেটির নাম বদলে রাখা হয় 'পাঞ্জাব '৯৫', আর শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায় 'সতলুজ' নামে।
মানবাধিকার কর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত এই ছবি দীর্ঘদিন সেন্সর জটিলতায় আটকে ছিল। অভিযোগ, সেন্সর বোর্ডের পক্ষ থেকে ১২০টিরও বেশি দৃশ্যে কাঁচি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না পেয়ে গত ৩ জুলাই জি ফাইভ ওটিটি-তে স্ট্রিমিং শুরু হলেও, মাত্র দু'দিনের মাথায় ভারতে প্ল্যাটফর্মটি থেকে ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়।















