গুঞ্জন ছিল আগেই। এবার তাতে শিলমোহর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস ‘দুই বোন’ অবলম্বনে ছবি তৈরি করছেন শুভ্রজিৎ মিত্র। ছবিতে যেমন থাকবে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যরস, তেমনই মিশে যাবে ইতিহাসের গভীর আবহ। বর্তমানে পুরোদমে চলছে প্রস্তুতির কাজ।
নির্মাতার মতে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস ‘দুই বোন’ তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রচনা। এই উপন্যাসের মূল কথা এক গভীর মানবিক সঙ্কটকে ঘিরে।
একজন পুরুষ যখন একই নারীর মধ্যে একসঙ্গে মায়ের আশ্রয় ও প্রেমিকার টান খুঁজে পায় না, তখন তার মনে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, সেদিকেও তাকিয়ে দেখবে এই ছবি। এখানে প্রবেশ করা হবে মানুষের মনের গভীরে। যেখানে ভালবাসা, আকর্ষণ, অপরাধবোধ ও নৈতিকতার সীমারেখা ক্রমশ ঝাপসা হয়ে যায়। ঠিক কী সঠিক, আর কী ভুল, এই প্রশ্নের সহজ উত্তর এখানে নেই।
গল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উঠে আসে ইতিহাসের প্রেক্ষাপটও। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সুভাষচন্দ্র বসুর মতো চরিত্রদের উপস্থিতি, ব্রিটিশ শাসনের সময়কার কলকাতার সামাজিক জীবন, স্বাধীনতা আন্দোলনের আবহ এবং নতুন শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাব, সব মিলিয়ে উপন্যাসটি কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের নয়, একটি বদলে যাওয়া সময়ের ছবিও তুলে ধরে। বিভিন্ন সামাজিক স্তরের চরিত্র ও তাদের ছোট ছোট গল্প এই আখ্যানকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
শুভ্রজিৎ তাঁর ছবির নাম রেখেছেন ‘মায়ামৃগয়া’। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে দুই বোন শর্মিলা ও ঊর্মিমালা। এবং তাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা শশাঙ্ক নামের এক পুরুষ। তিনজনের আবেগ, টানাপড়েন ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় এমন এক ভাগ্যবিন্যাস, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতার সঙ্গে মিলেমিশে যায় সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সমাজের বদলে যাওয়া মুখ।
পরিচালকের কথায়, “‘মায়ামৃগয়া ’ আমার কাছে কেবল একটি কাহিনি নয়। এ এক প্রশ্ন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘দুই বোন’এ যে দ্বন্দ্ব উন্মোচন করেছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গি। মানুষ কি একই সম্পর্কে আশ্রয় ও আকাঙ্ক্ষা, মাতা ও প্রেয়সী, স্থিরতা ও অস্থিরতা, সব একসঙ্গে পেতে পারে? এই ছবি সেই অসম্ভব আকাঙ্ক্ষার অনুসন্ধান। এখানে ইতিহাস কেবল পটভূমি নয়। ইতিহাস চরিত্রের মতোই শ্বাস নেয়। স্বাধীনতা আন্দোলন, সামাজিক রূপান্তর ও ব্যক্তিগত প্রেম, সব একসূত্রে বাঁধা। ‘মায়ামৃগয়া’ এমন এক প্রেমকথা, যেখানে কেউ নায়ক নয়, কেউ খলনায়ক নয়। সবাই কেবল মানুষ।”
