এসআইআর শুনানিতে ডাক পেলেন অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুণ্ডু। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই পরিস্থিতির শিকার হলেন তিনি? আজকাল ডট ইন-কে সৌমিতৃষা কুণ্ডু জানান, বাবার নামের বানানে ভুল খুঁজে পেয়েছে কমিশন। কিন্তু অভিনেত্রী বলেন, "আমাদের কাছে নথি অনুযায়ী ঠিক আছে সব। কিন্তু ওদের তরফে ভুল ধরা হয়েছে। তাই শুনানিতে ডাকা হয়েছে।"
এটা কি কোনওভাবে মমতা-স্নেহধন্যা হওয়ার ফল বলে মনে হচ্ছে সৌমিতৃষার? অভিনেত্রীর জবাব, "সেটা ঠিক জানি না। হঠাৎ করে আমায় ডাকায় অবাক হয়েছি ঠিকই। তবে এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। ভোটের ঠিক দু-তিনমাস আগেই কেন এটা হচ্ছে বুঝতে পারছি না।"
সৌমিতৃষা আরও বলেন, "আমার ক্ষেত্রে তো তা-ও মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু যাঁরা দিন আনেন দিন খান তাঁদের তো একটা দিনের রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে এই শুনানিতে গেলে। যাতায়াত ভাড়া দিয়ে যেতে হবে, অথচ সেদিনের রোজগারটাই ঘরে আসবে না। সবচেয়ে অসুবিধা তো বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে। তাঁরা কেন্দ্র সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের একটু সুবিধার জন্য কমিশনের প্রতিনিধিরা বাড়িতে এসে শুনানির কাজটা করতে পারছেন না। এটা কমিশনের গাফিলতিই। এরকম হুট করে অপরিকল্পিতভাবে কাজ হচ্ছে এর ফলে আতঙ্কে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন।"
প্রসঙ্গত, শুনানিতে ডাক পড়েছিল টলিউডের 'মেগাস্টার' দেবের। দেবকে এসআইআর শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের তলব করার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছিল হইচই। তিনি তো শুধুই টলিপাড়ার দাপুটে অভিনেতা-প্রযোজক নন, পাশাপাশি শাসকদলের সাংসদ-ও। তবে শুধু একা দেব নয়, শুনানিতে ডাক পড়েছে তাঁর মা-বাবা, বোনেরও!বুধবার যাদবপুর অঞ্চলে কাটজুনগর বিদ্যাপীঠে হাজির হয়েছিলেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা-সাংসদ। প্রসঙ্গত, সাউথ সিটি আবাসনে পরিবার সহ থাকেন দেব।
শুনানিপর্ব শেষে বেরিয়ে এসে সেই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছিলেন দেব। নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক প্রশ্ন অক্ষর পাশাপাশি রেখেছিলেন একটি অনুরোধও। দেবের কথায়, “এমুনেশন ফর্ম পূরণে গোলযোগ থাকায় আমাকে ডাকা হয়েছিল... তবে ঠিকঠাকভাবেই ফর্ম পূরণ করেছি, জানি না কী সমস্যা হচ্ছে। দেখুন, আমি না-ই আসতে পারতাম, বদলে একটা চিঠি পাঠিয়ে দিতাম। কিন্তু আমি আইন মেনে চলি সবসময়। যা, যা যেভাবে করতে বলা হয়েছে করেছি।আমি সবসময় আইন মেনে চলব।”
এরপরই দেবের প্রশ্ন ছিল, “২০১১ থেকে ভোট দিয়েছি, সেটা কি তাহলে অবৈধ? আর একটা কথা, এসআইআর শুনানি তো ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে সেটা বাংলায় বিধানসভার ভোটের ভোটের মুখে কেন শুরু হল? কেন এক বছর আগে থেকেই শুরু করা হল না শুনানি পর্ব? এরপর নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে হাত জোড় করে তাঁর অনুরোধ, বয়স্কদের কেন হয়রানি করা হচ্ছে? তাঁদের নিয়ে একটু ভাবুন দয়া করে....সিনিয়র সিটিজেনকে নিয়ে ভাবুন। আমি সাধারণ মানুষকে নিয়ে ভাবছি।”
