মঙ্গলবার সকালে রটে যায় জিতু কামালের এরাও মানুষ ছবির সেট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে আসে অভিনেতার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। এই ঘটনার পর আজকাল ডট ইনের কাছে অভিনেতা গোটা ঘটনাটাই জানান, একই সঙ্গে বলেন যে তিনি যা বলছেন সেটার পক্ষে তাঁর কাছে প্রমাণ আছে। এবার সমাজমাধ্যমে সেই প্রমাণ প্রকাশ করলেন।
এদিন ফেসবুকের পাতায় জিতু কামাল একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানেই দেখা যাচ্ছে এক ব্যক্তি তার কাছে ক্ষমা চাইছেন।
এদিন এই ভিডিও পোস্ট করে জিতু লেখেন, 'প্রথম মুহূর্ত থেকে বলে যাচ্ছি,উনি গালি দিয়েছেন। এখন ভেবে বলছি, এমনটা নয়। আপনি তো এমনি এমনি বলবেন না , ভিডিওতে (15th march,2026)👇🏻 "আমি ওর হয়ে ক্ষমা চাইছি, গালি দেওয়াটা ঠিক হয় নি, ও অর্থাৎ প্রকাশ বাবু(ডাইরেক্টর) ডিসটার্ব আছেন” নিশ্চয়ই কিছু বলেছে এবং তাতে আপনিও সহমত হচ্ছেন যে গালি দেওয়াটা ঠিক হয় নি। আজ হয়তো আপনি সে কথাগুলো বলছেন না। শেষ দিন এসেই আপনাদের মনে হল যে আমি কপারেট করছি না?।' (পোস্টদাতার বানান অপরিবর্তিত রাখা হল)
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, এই বিতর্ক প্রসঙ্গে জিতু আজকাল ডট ইনকে বলেছেন, "১৬ তারিখ মানে শুটিংয়ের শেষ দিন ওদের কেন মনে হল যে আমি মেকআপ করছি না, সহযোগিতা করছি না। এরা নতুন। শুটিং শেষ হওয়ার পর বাদ দেওয়া, শিল্পীর অনুমতি ছাড়া ডাবিং নিজের মতো করে নেওয়া যায় না। এগুলো জানে না। গায়ে হাত দিতে আসা, গালি দেওয়া, এটা কে মানবে? শেষ দিন বলে এটা করা যায়? পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলছে, কিন্তু কেন সেটা তো বলছে না। এমনই এমনই বলছে? আমার কাছে একটা ভিডিও ফুটেজ আছে, অমিত তালুকদার, পুরনো লোক বলে নিজেকে দাবি করে, যদিও চিনি না, ও বারবার অরূপদা (অরূপ বিশ্বাস), পিয়াদির (পিয়া সেনগুপ্ত) নাম করে, তাঁদের দিয়ে থ্রেট করানোর কথা বলে। এইগুলো করেছে। আমি যখন হাসপাতালে ভর্তি হই, এঁদের কারণে হই। এদের ধুলোবালি, হাবিজাবির কারণে। কিন্তু এসব অ্যাম্বার পাউডার দিয়ে লুকসেট হয়নি। হলে ওখানেই বারণ করে দিতাম। কারণ আমার অ্যাজমা আছে। তাঁরা বিশ্বাসই করছেন না যে আমার শরীর খারাপ হতে পারে। আমি ওখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ি, তাও তাঁরা বিশ্বাস করেননি প্রথমে।"
তিনি আরও বলেন, "আমায় সবার সামনে বলেছে এটা কি হারামের টাকা? মেরে তোমায় ঠান্ডা করে দেব। তোমার গায়ে কেউ হাত দেয়নি বলে তুমি এসব করে বেড়াচ্ছ। আমি ভেবেছি ইয়ার্কি করছে। আমিও বলেছি মারো মারো। দড়াম করে দরজাটা আমার হাতের সামনে বন্ধ করে দেন। সাই প্রকাশ আমায় 'বেরিয়ে যা' বলেন, তখন আমি বেরিয়ে আসি। কারণ ওখানে শুটিংয়ের পরিবেশ ছিল না। শেষ দিনে এটা ঘটাল। হয়তো আমি ওদের ফাঁদে পা দিলাম। না বেরিয়ে যদি আমি তর্ক করতাম। ফোরামকে জানিয়েই বেরিয়েছি। কিন্তু এঁরা পাওয়ার গেম খেলার চেষ্টা করে। নেতা মন্ত্রী, এসব করার চেষ্টা করে। আইনি জায়গায় যাবে, আমিও নিশ্চয় আইনি ভাবে লড়ব। কিন্তু গায়ে হাত তোলা, হুমকি দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে আছে, যে আমি বলছি আমায় সরি বলতে হবে সেটাও আছে।"
কী অভিযোগ জিতুর বিরুদ্ধে? অভিনেতা নাকি প্রথম দিন থেকেই স্পট বয় থেকে ফ্লোরের অনেকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। এমনকী জানিয়েছেন, ১০ ঘণ্টার বেশি শুটিং করতে পারবেন না। আর যদি করেন এক ঘণ্টার জন্য নাকি দেড় লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেবেন। শুটিং শুরুর কথা বললে অভিনেতা পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেন। তারপরই নাকি তিনি বেরিয়ে যান। এরপর নির্মাতাদের তরফে তাঁর সঙ্গে ছবির চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, 'এরাও মানুষ...' ছবির শুটিংয়ের গোড়া থেকেই একের পর এক সমস্যা চলেছে। একদম গোড়ার দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন অভিনেতা। তারপর এই ঘটনা। এখানে জিতুর বিপরীতে দেখা যাবে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়কে। পরিচালক সাই প্রকাশ লাহিড়ি।
