পতৌদি পরিবারের অন্দরের গল্প মানেই অনুরাগীদের কাছে বাড়তি পাওনা। তবে এবার কোনও মজার আড্ডা নয়, বরং হাড় হিম করা এক চুরির ঘটনার স্মৃতিচারণ করলেন অভিনেতা সোহা আলি খান। ২০১১ সালের সেই ভয়ানক রাতে তাঁদের শোওয়ার ঘরে ঢুকে পড়েছিল এক চোর। সেই সময় স্বামী কুণাল খেমু বীরত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি সামলালেও, সোহা নিজে ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।

 

সম্প্রতি এক পডকাস্টে সোহা জানান, ঘটনাটি ঘটেছিল রাত ৪টে নাগাদ। যখন তাঁরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন এক চোর তাঁদের শোওয়ার ঘরে ঢুকে পড়ে। সেই মুহূর্তের কথা মনে করে সোহা বলেন, “যখন আমাদের বাড়িতে চুরি করতে ঢুকেছিল চোর এবং কুণাল তাকে ধরে ফেলেছিল, আমি তখন এক কোণায় দাঁড়িয়ে কাঁদছিলাম। ওটা আমার জীবনের সেরা কোনো মুহূর্ত ছিল না। চাপের মুখে আমার স্নায়ু অবশ হয়ে গিয়েছিল।”সোহা মজার ছলে নিজেকে ‘ফাট্টু’ (ভীতু) বলে সম্বোধন করেন এবং জানান যে, তিনি এখনও এই স্বভাব বদলানোর চেষ্টা করছেন।

 

সোহার ভীরুতার বিপরীতে কুণাল খেমু সেদিন অসীম সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন। সোহা জানান, সেই সময় কুনালের এক হাত প্লাস্টার করা ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি পিছু হটেননি। এক হাতেই সেই চোরের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে তাকে পাকড়াও করেছিলেন অভিনেতা-পরিচালক কুণাল। কুনালের এই লড়াকু মেজাজই সেদিন বড় কোনো বিপদ থেকে তাঁদের বাঁচিয়েছিল।

 

 

সোহার এই পুরনো অভিজ্ঞতার কথা নতুন করে আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ হল তাঁর দাদা সইফ আলি খানের ওপর সাম্প্রতিক হামলা। ২০২৫-এর জানুয়ারিতে বান্দ্রার বাড়িতে চুরির চেষ্টা রুখতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন সইফ। আততায়ী তাঁকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে, যার ফলে সাইফকে অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছিল। দাদার সেই কঠিন সময়ের মাস কয়েক পরেই নিজের জীবনের এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন সোহা।

 

এই পডকাস্টেই সোহা আরও জানান, ব্যক্তিগত সমস্যায় তিনি এখনও দাদ সইফের ওপরই ভরসা করেন। রিলেশনশিপ টিপসের জন্য যেমন সাইফ আছেন, তেমনই বলিপাড়ায় গসিপ বা টাটকা খবরের জন্য তিনি ভ্রাতৃবধূ করিনা কাপুর খানের দ্বারস্থ হন।কেরিয়ারের দিক থেকে সোহাকে শেষ দেখা গিয়েছিল ‘ছোরি ২’ ছবিতে নুসরত ভরুচার সঙ্গে। বর্তমানে তিনি তাঁর নিজস্ব পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’ নিয়ে ব্যস্ত।