নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়— টলিউডের এই ‘পাওয়ার হাউস’ জুটির আগামী ছবি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। আগামী ২৯ মে ছবিটির মুক্তির আগে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেল ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গান ‘চলে যেও না’। রহস্য-রোমাঞ্চে মোড়া এই ছবির এই গানটি আক্ষরিক অর্থেই একটি মিউজিক্যাল ট্রিট হতে চলেছে।

দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় নাচের ছন্দে ফিরলেন জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। ছবিতে ‘পুতুল বাই’-এর চরিত্রে তাঁর শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রতিটি মুদ্রা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তবে কেবল দৃশ্যকাব্য নয়, শ্রীজাত রচিত এই গানের মাধ্যমে টলিউড পেল এক নতুন প্রতিভাকে— গায়িকা অনশ্মিতা। অনশ্মিতার এটিই প্রথম বড় ব্রেক, যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত সুরকার জয় সরকার।

গানটিকে বড় মাপের রূপ দিতে কোনো খামতি রাখা হয়নি। জয় সরকার জানান, গানে কত্থক নৃত্যের বিশেষ ‘বোল’ ব্যবহার করা হয়েছে যা সুস্মিতা মিশ্র কম্পোজ করেছেন। বিশাল স্ট্রিং সেকশন, সেতার এবং সন্তুরের মেলবন্ধনে গানটিকে এক আভিজাত্য দেওয়া হয়েছে। সুরকারের কথায়, অনন্যা চট্টোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং এই গানের জন্য তিনি প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছেন। এমনকি রিহার্সালের সময়ও গানটি ভাল লাগার কথা জানাতে জয়কে ফোন করেছিলেন অভিনেত্রী।

অনন্যা বললেন, “২০ বছর পর ফের শিবু-নন্দিতাদির সঙ্গে কাজ করা। মজার কথা, এই পারফরম্যান্সের প্রস্তাব দিতে শিবু যখন আমাকে ফোন করেছিল তখন আমার পায়ে বেশ বড়সড় চোট। এবং তা এতটাই যে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। চেন্নাইয়ে গিয়ে সেসব করব। তার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং তখনই শিবুর ফোন আসে। সব শুনেটুনে ফোন রাখি। শিবুকে আমার এই শারীরিক অবস্থার কথা জানায়নি। দু'মিনিটের মধ্যে ঠিক করে ফেলেছি এই নাচটা করব। অস্ত্রোপচার  আউট, ডান্স ইন। মা'কেও জানিয়েছিলাম দ্বিধাভরে। মন খচখচ করছিল। মা কিন্তু ভরসা দিয়েছিল। যদিও আমার চিকিৎসক রাজি হননি একেবারে। সোজা হাসপাতাল থেকে লুক টেস্টে গিয়েছিলাম। নন্দিতাদিরা দেখে চমকে গিয়েছিল। আমি ভরসা দিয়ে বলেছিলাম -'আমরা সবাই মিলে করে নেব।' খুব, খুব কষ্ট হয়েছিল কিন্তু উৎরে গিয়েছিলাম। আমাদের পেশাটাই এমন। একটা কাজের নেশা থাকে, মোহ থাকে...প্রতিটি শিল্পীর-ই। শটের সময় কিছু টের পাইনি কিন্তু শুটিং শেষে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম।”

 

 

সামান্য থেমে আবেগপ্রবণ গলায় অনন্যা আরও বলেন, “শারীরিকভাবে প্রচুর কষ্ট সহ্য করেছি এই পারফরম্যান্সের জন্য। ওরকম পা নিয়ে মহড়া চালিয়েছি।সুস্মিতা ব্যানার্জির কাছে নাচটা তুলেছি, মহড়া চালিয়ে গিয়েছি বেশ অনেকদিন। কারণ মাঝখানে চর্চা ছিল না নাচের। আসলে, ক্লাসিক্যাল নাচ তো খুব একটা সহজ কথা নয়।...বাড়ি ফিরে আর বিছানা ছেড়ে উঠতে পারতাম না। ওই সময়টায় আমার কিছু কাছের বন্ধু পাশে ছিল, প্রচণ্ড যত্নে মুড়ে রেখেছিল তারা আমাকে। এটাও ভোলার নয়। আসলে, অনেক আশা এবং পরিশ্রমের পর যখন আশানুরূপ ফলটা আসে তখন চোখ তো ভালবাসার জলে ভরে ওঠে। এবং উইন্ডোজ প্রযোজনা সংস্থার পাশাপাশি শিবু ও নন্দিতাদির কাছে যেমন ভালবাসা পেয়েছি, তা অভাবনীয়।" কথাশেষে তাঁর সংযোজন, "দর্শককে বলব, উইন্ডোজের প্রতিটি ছবিকে আপনারা ভালবাসা দিয়েছেন। বিশ্বাস রাখতে পারেন, এই ছবিও আপনাদের নিরাশ করবে না। ”

রহস্য এবং ইতিহাসের মিশেলে তৈরি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ মে মাসের শেষ দিকে বড়পর্দায় আসছে। একদিকে নন্দিতা-শিবপ্রসাদের পরিচালনা, অন্যদিকে জয় সরকার-শ্রীজাতর সঙ্গীত— সব মিলিয়ে ছবিটি বক্স অফিসে ভালো ফল করবে বলেই আশা রাখছেন চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা।