সকাল থেকে দম ফেলার সময় নেই প্রযোজক-পরিচালক স্নেহাশিস চক্রবর্তী, অভিনেত্রী স্ত্রী রূপসা চক্রবর্তীর। বেশ কয়েক বছরের স্বপ্ন অবশেষে বাস্তব। এই বছর প্রথম বাড়িতে জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করলেন তাঁরা। আজকাল ডট ইনকে রূপসা জানিয়েছেন, আগে বাড়িতে দুর্গাপুজো হত। গত চার-পাঁচ বছর ধরে জগদ্ধাত্রী পুজো করার কথা আলোচনা হচ্ছিল। ২০২৩-এ সেই ইচ্ছা পূর্ণ হল।

প্রথম বছরের পুজো। কিন্তু আয়োজনে কোনও খামতি নেই। রূপসা যখন কথা বলছিলেন সেই সময় নবমী পুজো শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বিধি মেনে একদিনে চারদিনের পুজো হচ্ছে। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীর পুজো শেষ হলে দশমী। ভোগ থেকে আমন্ত্রিতদের খাওয়াদাওয়া—নিখুঁত করে করার চেষ্টা করেছি। সকাল থেকে পুজোর জোগাড়ে ব্যস্ত স্নেহাশিস। ননদ ভোগের দিক দেখছে। আমি স্নেহাশিসের সঙ্গে দেবীর পুজোর জোগাড়ে রয়েছি। সঙ্গী আমাদের প্রযোজনা সংস্থার কর্মীরা। ওঁদের কিচ্ছু বলতে হয় না। নিজেরা দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করছেন। গত কয়েক বছর ধরেই মায়ের পুজোর খুব ইচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই হচ্ছিল না। পর্দায় "জগদ্ধাত্রী" শুরু হতেই স্নেহাশিসকে আক্ষেপ করে বলেছিলাম, পর্দায় মা এসে গেলেন। বাড়িতে তাঁকে আনা গেল না! আমার আক্ষেপ বোধহয় দেবী শুনতে পেয়েছিলেন।’’

ব্লুজ প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধারের দেবীপ্রতিমার মুখ অবিকল যেন ধারাবাহিক ‘জগদ্ধাত্রী’র মতো। এবিষয়ে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ধারাবাহিকের দেবীমুখের আদল বিশেষ ভাবে তৈরি। সেই ছবি তুলে কালীঘাটের মৃৎশিল্পীর কাছে পাঠানো হয়েছিল। তিনি পর্দার দেবীকে বাস্তব করেছেন। আগের দিন শুটের ধকল। পরের দিন পুজো। বাড়ির গিন্নি কিন্তু উৎসবের দিনটাই শুধু ছুটি পেয়েছেন। আর টিম ‘জগদ্ধাত্রী’? অভিনেত্রীর দাবি, শুটের মাঝে এদিন বড় গ্যাপ দেওয়া হয়েছিল। সেই অবসরে সবাই এসে পুজো দেখে গিয়েছেন। 

পর্দার ‘জগদ্ধাত্রী’ কি বাস্তবেও নিজের হাতে পুজো করলেন? হাসতে হাসতে রূপসার জবাব, ‘‘সেটা হয়নি। বেচারি শুটিং ছেড়ে তো বেশিক্ষণ থাকতে পারেনি। বাড়ির যিনি নিত্যপুজো করেন তিনিই জগদ্ধাত্রীপুজো করছেন।’’ ভোগ থেকে ভূরিভোজ— সেখানেও এলাহি আয়োজন। পোলাও, খিচুড়ি, লাবড়া, নানা স্বাদের আলুর দম, পনির, ফ্রায়েড রাইস, ফুলকপির রসা, ধোঁকার ডালনা, লুচি, সুজি, চাটনি, মিষ্টি। সঙ্গে রকমারি ফল আছেই। দশমীতে দেবীকে ভোগ দেওয়া হবে পান্তা ভাত, কচুর শাক।