মু্ম্বইয়ে বাড়িতে বসে ছটফট করছেন গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্য। তাঁর কাছে খবর পৌঁছেছে, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ–এর কো চেয়ারপার্সন, সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির গভর্নিং বডির সদস্য, "আজকাল" এর ডিরেক্টর, শিল্পোদ্যোগী ও সাহিত্যিক মৌ রায়চৌধুরী আর নেই। মঙ্গলবার সকালে তিনি প্রয়াত। দিনের দিনে পৌঁছতে পৌঁছতে তাঁর দেরি হয়ে যাবে। ততক্ষণে শেষ কাজ মিটে যাবে। অভিজিৎ আসছেন বুধবার। তার আগে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করতেই তাঁর প্রথম কথা, ‘‘বয়সে ছোট হলে কী হবে, আমার মায়ের জায়গা দখল করে নিয়েছিলেন মৌ। নিজে মাছ খেতেন না। আমি মাছ খেতে ভালবাসি। তাই আমার জন্য রাঁধতেন!’’

মৌ রায়চৌধুরীর সঙ্গে অভিজিতের পারিবারিক সম্পর্ক। গায়কের কথায়, ‘‘আমি কলকাতায় এলে ওঁদের বাড়িতে আসবই। তখন সত্যম (রায়চৌধুরী) নিজে বাজার থেকে চিংড়ি মাছ, পছন্দের সামুদ্রিক মাছ কিনে আনত। আর মৌ নিজে হাতে রান্না করত। ওর হাতের লাউ-চিংড়ির স্বাদ জীবনে ভুলব না। আমার মায়ের পরে ওই একজনের হাতে রান্না চেটেপুটে খেতাম। তাই কলকাতায় আসার আগে রীতিমতো আবদার জানিয়ে রাখতাম, কী কী খাব। মুম্বইয়ের বাড়িতে এখন যা যা বাঙালি রান্না হয় তার সব ক’টা মেনু মৌয়ের থেকে শিখেছে আমার স্ত্রী। কারণ, ও পাঞ্জাবি।’’

কলকাতায় অভিজিতের ‘অলিখিত অভিভাবক’ মৌ রায়চৌধুরী। গায়ক শহরে কেবল পা রাখতেন। তাঁর থাকা-খাওয়া, গাড়ি-গাড়ির চালক ঠিক করার সব দায়িত্ব আজকাল দৈনিকের ডিরেক্টর নিজের দায়িত্বে নিয়ে নিতেন। হোটেলে রান্না করা খাবার পাঠাতেন। একবার টানা কয়েক দিন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় নিজের হাতে পটল দিয়ে পাতলা ঝোল রান্না করে খাওয়াতেন রোজ। তিনি জানতেন, কী করে মানুষকে ভালবাসতে হয়। গায়ক নিজের চোখে দেখেছেন, কী করে শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে সংস্থার। সবটাই হয়েছে আন্তরিকতা এবং মানুষকে ভালবাসার জন্য। গায়কের প্রতিটি গান তিনি সবার আগে শুনতেন। শুনে প্রশংসা জানাতে ফোন করতেন। যতই শরীর অসুস্থ থাক, অভিজিতের অনুষ্ঠান মানেই প্রথম সারিতে বসা মৌ রায়চৌধুরী।

গায়কের দাবি, ‘‘দুর্গাপুজোয় ছেলে ঋষিকে নিয়ে মু্ম্বইয়ে সপরিবার আসত। নিয়মিত আমার খোঁজ নিত। অত্যন্ত স্নেহ করত সবাইকে। শুধু আমাকে না। যার সঙ্গে পরিচয় হত তাকেই। মৌ তো সব ছেড়েছুড়ে চলে গেল। হারালাম তো আমি। কলকাতায় পা রাখলে মায়ের মতো করে আর কে আমায় আগলাবে?’’