মঙ্গলবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই তালিকায় মিলল বড় চমক। এবার রয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুখ। যার মধ্যে অন্যতম শ্রেয়া পাণ্ডে। মানিকতলা কেন্দ্র থেকে প্রাথী হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া।
বরাবরই মানিকতলার এলাকাসীদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন শ্রেয়া। বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওই এলাকার নানা সমাজমূলক কাজের নজির দেখা যায় সমাজমাধ্যমের পাতায়। নির্বাচনের টিকিট পেয়ে কী প্রতিক্রিয়া তাঁর? কোন ফর্মুলায় এলাকাবাসীদের মন জিতবেন তিনি? আজকাল ডট ইন-কে জানালেন, "আমি অনেকদিন ধরেই এলাকাবাসীদের সঙ্গে রয়েছে। বিভিন্নভাবে সামাজিক কাজ করি। তাই আলাদাভাবে কী যে করব বুঝতে পারছি না। তবে অনেক কিছু পরিকল্পনা রয়েছে"
আগেই কি প্রত্যাশা ছিল? শ্রেয়ার স্পষ্ট জবাব, " আমি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমাকে যোগ্য মনে করেছেন।" তাঁর আরও সংযোজন, "কলকাতার মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রার্থী আমি। দল মনে করেছে তাই আমি এই জায়গা পেয়েছি।"
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের পরই হয় মানিকতলা বিধানসভার উপনির্বাচন। মানিকতলায় প্রয়াত সাধন পাণ্ডের শূন্যস্থান পূরণ করতে হয় নির্বাচন। সেবার ওই কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবেও উঠে আসে শ্রেয়ার পাণ্ডের নাম। কিন্তু তৃণমূল সূত্রে খবর পাওয়া যায়, সবকিছু ঠিক থাকলেও শেষ পর্যন্ত শ্রেয়ার নাম বাতিল হয়ে যায়। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধনের স্ত্রী সুপ্তি পাণ্ডের নামেই সিলমোহর দেন। তাই সেবার তীরে এসে তরী ডুবলেও অবশেষে দেড় বছরের মাথায় বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পেলেন শ্রেয়া।
আগামী দিনে কী কী কাজ করতে চান রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর মেয়ে? শ্রেয়ার কথায়, "আমি এলাকার গর্ভবতী মহিলাদের পুষ্টিযুক্ত খাবার দিই, ৫ থেকে ১৫ বছরের বাচ্চাদের সাঁতার শেখাই। আমাদের পুরো বিধানসভা জুড়ে কাজ করি। নবজাতক শিশুদের বাড়িতে গিয়ে আমি দোলনা দিয়ে আসি। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ছুটির সময়ে পড়ুয়াদের ব্রিটিশ ইনস্টিটিউট থেকে ইংরেজি ক্লাস করাই। সাঁতার, ক্যারাটে মেকআপ শেখাই। আগামী দিনে আরও নানা ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে।"
প্রসঙ্গত, এবার টলিপাড়া ও ক্রীড়াজগতের একাধিক তারকার প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বরং দেখা গিয়েছে, এবার তারকা মহলের যাঁরা টিকিট পেয়েছেন তাঁদের অধিকাংশ এর আগেও প্রার্থী হয়েছেন। মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলে এসেছেন।
