ঝলমলে গ্ল্যামারের দুনিয়ায় তারকাদের জীবন মানেই চকচকে, পরিপাটি নিখুঁত ছবি, এমনটাই সাধারণত দেখা যায় প্রকাশ্যে। কিন্তু পর্দার আড়ালে বাস্তবটা যে অনেক বেশি জটিল ও বেদনাদায়ক, সে কথা খুব কমই প্রকাশ্যে আসে। তেমনই এক গভীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী শেফালি শাহ। প্রথম বিয়েতে মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং নিজেকে বাঁচাতে একসময় সেই সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসার মুহূর্তের সব কথাই এবার অকপটে জানালেন তিনি।
একটি খোলামেলা আলোচনায় শেফালি ফিরে তাকান জীবনের এমন এক অধ্যায়ে, যা তাঁর সম্পর্ক, আত্মসম্মান এবং স্বাধীনতা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল। এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমার ক্ষেত্রে এই উপলব্ধিটা আসে প্রথম বিয়ের পর। এক বন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, “যদি আর কখনও ভালবাসা না পাও, তবু কি এই ঝুঁকি নেবে না কি থেকে যাবে?”
একাকিত্বের ভয় থাকা সত্ত্বেও তাঁর সিদ্ধান্ত যে স্পষ্ট ছিল, তা জানাতে দ্বিধা করেননি শেফালি। তাঁর কথায়,“আমি বলেছিলাম, তবুও আমি ঝুঁকি নেব। সারাজীবন একা থাকতে হলেও সেটাই বেছে নেব। যে পরিস্থিতি আমাকে আনন্দ, আত্মবিশ্বাস বা মূল্যবোধ দেয় না, সেখানে আমি থাকতে পারি না।”
এক অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কে আটকে থাকার মানসিক ক্ষত যে ধীরে ধীরে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল, সে কথাও স্বীকার করেন অভিনেত্রী। শেফালি বলেন, “হয়তো প্রতিদিনই সেটা ঘটছিল, কিন্তু হঠাৎ একদিন এমন একটা মুহূর্ত আসে, যখন আপনি বুঝতে পারেন এটা আমাকে মেরে ফেলতে পারে! আমি আর পারছি না।”
এই আলোচনায় বার্ধক্য, আত্মস্বীকৃতি এবং সকলকে খুশি করার চাপে নিজেকে হারিয়ে ফেলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। শেফালির বক্তব্য,
“বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনি তোয়াক্কা না করতে শুরু করেন। সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তখনই এক ধরনের বোধের জন্ম নেয় মনের অন্দরে। বুঝতে পারেন, আমি কোনও পিজ্জা নই যে সবাইকে খুশি করতে হবে।” নিজের মূল্য বোঝার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “কেউ আমাকে বলেনি যে তুমি নিজেই যথেষ্ট। সম্পূর্ণ হতে তোমার স্বামী, বন্ধু, ভাই বা বোনের দরকার নেই। তুমি নিজেই যথেষ্ট।”
মানসিক নির্যাতনকে সমাজে কীভাবে প্রায়শই হালকাভাবে দেখা হয়, সেই বিষয়েও কড়া মন্তব্য করেন শেফালি। তাঁর কথায়, “ বহু মানুষ এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়। আমরা অনেকেই যাই। আর সবসময় একটা প্রশ্ন শুনতে হয়, ‘ আরে ও তো তোমাকে আর গায়ে হাত তোলেনি!’”
এই ধরনের নির্যাতন যে মানসিকভাবে কতটা গভীর ক্ষত রেখে যায়, তা বোঝাতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “আপনি বুঝতেই পারেন না, এর ফলে কী ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। এটা একজন মানুষ হিসেবে আপনাকে পুরোপুরি ভেঙে দেয়।”
উল্লেখ্য, শেফালি শাহ প্রথমে অভিনেতা হর্ষ ছায়াকে বিয়ে করেছিলেন। পরে ২০০০ সালে তিনি পরিচালক-প্রযোজক বিপুল শাহকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি শেফালিকে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘দিল্লি ক্রাইম’-এর তৃতীয় সিজনে দেখা গিয়েছে অন্যতম মুখ্যচরিত্রে।
