শাহরুখ খান মঞ্চে উপস্থিত হওয়া মানেই যাদু! গত রবিবার নিজের জন্মদিনে এক প্রেক্ষাগৃহে ছোট করে অনুরাগীদের সঙ্গে মোলাকাতের আয়োজন করেছিলেন তিনি। সেখানেই একে একে উঠে এল তাঁর পুরোনো ছবির স্মৃতি, ফ্যানদের সঙ্গে অকপট আলাপচারিতা, আর ছেলেমেয়ে সুহানা ও আরিয়ন খানকে নিয়ে একদম খোলামেলা স্বীকারোক্তি।

 

শাহরুখ জানালেন, যদিও তিনি দেশের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন, তবু নিজের সন্তানদের কখনও উপদেশ দেন না। তাঁর কথায়, “আমি ওদের তেমন কিছু বলি না, কারণ আমি বিশ্বাস করি সৃজনশীল মানুষদের আলাদা করে কিছু বলা লাগে না। আমি তো ৩৫ বছর ধরে সিনেমায় কাজ করছি, তাই জানি আমার নামের সঙ্গে একটা বড় ‘চাপ’ জুড়ে আছে। ওরা যেন না ভাবে, ‘আরে, আমাদের বাবার নাম তো শাহরুখ খান, ওঁর কথা শুনতেই হবে।’ আমি একেবারেই চাই না ওরা সেই চাপে থাকুক।”

 

সুহানার অভিনয় আর আরিয়নের লেখালিখি-পরিচালনার জগতে প্রবেশ নিয়েও 'কিং খান' বললেন, “ওরা নিজেরাই কাজ করে, আমি কখনও হস্তক্ষেপ করি না। কখনও কিছু জানতে চাইলে শুধু নিজের মতটা বলি, কখনও ভাল লাগে, কখনও না। তবে সব সময় বলি, ‘তুমি যেটা করতে চাও, সেটাই করো।’”

 

তবে মজার বিষয়, আরিয়নের প্রথম পরিচালনা করা ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস অফ বলিউড’-এর পিছনে কিন্তু খানিকটা বাবারই হাত ছিল। শাহরুখ হাসতে হাসতে বলেন, “ও নিজেই লিখেছিল ছবিটার চিত্রনাট্য, কিন্তু পরিচালনা করবে কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহে ছিল। ভাবছিল অন্য পরিচালক নেওয়া যায় কি না। তখন আমি বলেছিলাম, যারা লেখে, তারাই নিজের গল্প সবচেয়ে ভাল বলতে পারে। তাই ওকে বললাম, ‘ পরিচালনাটা করো, দেখি কী হয়! কতটা খারাপই বা করতে পারবে?’”

 

এই সহজ অথচ আত্মবিশ্বাসী পরামর্শেই যেন ছেলেটা সাহস পায় প্রথমবার ক্যামেরার পেছনে দাঁড়ানোর। আর শাহরুখের কথায়, “যখন সৃজনশীল মানুষকে নিজের মতো কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়, তখনই তারা সেরা কাজটা করে।”

 

এই ছোট্ট ফ্যান মিটে ‘কিং খান’-এর এই স্বীকারোক্তি যেন এক নতুন শিক্ষা - খ্যাতির চাপে নয়, স্বাধীনতার আলোয়ই বেড়ে উঠুক পরবর্তী প্রজন্ম। আর শাহরুখ খান ঠিক সেটাই চান, তাঁর সন্তানরা যেন নিজের পথ নিজেরাই গড়ে নেয়, বাবার নামের বোঝা নয়, বরং নিজের প্রতিভার আলোয় আলাদা হয়ে ওঠে।


সেই অনুষ্ঠানে ‘রা.ওয়ান’-এর সিক্যুয়েল নিয়েও বড় ইঙ্গিত দিলেন শাহরুখ।  জানালেন, ‘রা.ওয়ান’ছবিটা তাঁর হৃদয়ের খুব কাছের, আর পরিচালক অনুভব সিনহা ছবিটার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। শাহরুখের আশা ছিল, ‘রা.ওয়ান’ ভারতের সিনেমায় এক নতুন ধারার সূচনা করবে- দেশি সুপারহিরো ফিল্ম তৈরির এক যুগ শুরু হবে। তিনি চেয়েছিলেন, এই ছবির মাধ্যমে আরও প্রযুক্তিগত ও উচ্চমানের ভিজ্যুয়ালি প্রজেক্ট করতে উৎসাহ পাবেন অন্য পরিচালকরা। তবে বাস্তবে তা হয়নি। অনেকেই ছবিটিকে ভালবেসে ফেললেও শাহরুখের আশা অনুযায়ী ভারতীয় সিনেমায় কোনও নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়নি। 

 

এবার এই ছবির সিক্যুয়েল প্রসঙ্গে ‘কিং খান’-এর স্পষ্ট মন্তব্য— “যদি অনুভব আবার বানাতে চায়, আমি রাজি। কারণ যিনি এই ছবি বানিয়েছিলেন, ওর হাতেই সেই ভবিষ্যৎ থাকা উচিত। আমরা খুব পরিশ্রম করেছিলাম। ঈশ্বরের ইচ্ছা থাকলে হয়তো আবার সেই সময় আসবে। আর এখন তো এই ছবি বানানো আরও সহজ।”

 

উল্লেখ্য, গত মাসেই অনভব সিনহা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “এখন অনেকেই বলে যে তারা ‘রা.ওয়ান’ পছন্দ করে, কিন্তু তখন ছবিটা ফ্লপ বলেই ধরা হয়েছিল। শাহরুখ খানের সঙ্গে একটাই ছবি বানিয়েছিলাম, আর সেটাই ব্যর্থ হল...এই ব্যাপারটা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছিল। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম, সেই ধাক্কা কাটাতে সময় লেগেছিল।”