বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খানকে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে গল্পের শেষ নেই। কেউ তাঁকে বলেন অসম্ভব মেজাজি, কেউ বা খামখেয়ালি, কেউ আবার তাঁর দয়ালু উদার অবতারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু ২০১৮ সালে ‘রেস ৩’ ছবির শুটিংয়ের শেষ লগ্নে সহ-অভিনেতা শাকিব সেলিমের সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা হয়তো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করলেন খোদ শাকিব।

ঘটনাটি ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের। একদিকে পর্দায় অনিল কাপুর, ববি দেওল ও সলমন খানের মতো তারকাদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার উত্তেজনা, অন্যদিকে ৮ এপ্রিল শাকিবের জন্মদিন। ২ এপ্রিল শুটিংয়ের শেষ দিনে অত্যন্ত সংকোচ নিয়ে শাকিব সলমনকে বলেছিলেন, “ভাই, ৮ তারিখ আমার জন্মদিন। একটা পার্টি দেওয়ার কথা ভাবছি, আপনি আসবেন?” সালমানও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে শাকিবের দিকে তাকিয়ে এক কথায় রাজি হয়ে যান— “অবশ্যই আসব।”


কিন্তু এর পরদিনই যেন আকাশ ভেঙে পড়ে ‘রেস ৩’ টিমের ওপর। কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় রাজস্থানের যোধপুর জেলে যেতে হয় সলমন খানকে। গোটা বলিউড তখন চরম আতঙ্কে, ছবির ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয় মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন। স্বাভাবিকভাবেই, শাকিব তাঁর জন্মদিনের সব জাঁকজমকপূর্ণ প্ল্যান বাতিল করে দেন। নিজের জন্মদিনের চেয়ে তখন সবার নজর টিভির পর্দায়— কী হবে ‘ভাইজান’-এর? এরপর অবাক লাগলেও এটাই সত্যি যে শাকিবের জন্মদিনের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ৭ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান সলমন।

শাকিব স্মৃতিচারণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেতা। তারপর বলেন, “৭ এপ্রিল তিনি জেল থেকে ফিরলেন। আমরা টিভিতে লাইভ দেখছিলাম যে তিনি বিমানবন্দর থেকে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছেন। ওদিকে ববি স্যার (ববি দেওল) আমাকে ফোন করে বললেন, ‘চল, ভাই এসেছে, একবার দেখা করে আসি।’ এসবের চোটে ততক্ষণে আমি তখন নিজের জন্মদিনের কথাই বেবাক ভুলেই গেছি।”

রাত তখন প্রায় ১১টা। সলমনের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের ভিড় আর উন্মাদনার মাঝেই শাকিব ভাবলেন এবার সবার অলক্ষ্যে পা বাড়ানো যাক। সলমনের কাছে বিদায় নিতে গিয়ে শাকিব বলেন, “ভাই, আমি তাহলে আসি। আমাকে আর একটা জায়গায় যেতে হবে।” কিন্তু সলমন ছাড়ার পাত্র নন! তিনি শাকিবকে আটকে বলেন, “আরে, একটু দাঁড়াও না। কোথায় যাচ্ছ? কিছু খেয়ে যাও।” শাকিব বারবার না করলেও সলমন কেবল বললেন, “আর ১০টা মিনিট অপেক্ষা করো।”

আর ঠিক রাত ১২টা বাজতেই যা ঘটল, তার জন্য বিন্দুমাত্র প্রস্তুত ছিলেন না শাকিব।

শাকিবের কথায়, “ঠিক রাত ১২টায় ঘরের ভেতর হাজির তিনটি বার্থডে কেক আর আমার জন্য একটা সুন্দর বার্থডে গিফট! আমি শুধু হাঁ করে সলমনের দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবছিলাম— এই মানুষটার ব্যক্তিগত জীবনে এত বড় ঝড় বয়ে গেল, জেল থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফিরলেন, তাও ওঁর আমার জন্মদিনের কথা মনে ছিল!”

শাকিব আরও যোগ করেন, “আমি নিশ্চিত কেক বা গিফটের অর্ডার হয়তো অন্য কেউ দিয়েছিল, কিন্তু ভাবনাটা তো সলমনের ছিল! সেদিন আমি বুঝতে পেরেছিলাম, এই মানুষটার মনটা খাঁটি সোনার। নিজের এত বড় বিপদের দিনেও যিনি অন্যের মুখের হাসির কথা ভাবেন, তিনি সত্যিই আলাদা।”

সেই ২০১৮ সালের জন্মদিনের পর থেকেই সলমনের সঙ্গে শাকিবের সম্পর্কটা আর পাঁচটা সাধারণ সহ-অভিনেতার মতো নয়, বরং তা রূপ নিয়েছে বলিউডের অন্যতম এক গভীর ও সুন্দর বন্ধুত্বের। আর এই গল্পটি আরও একবার প্রমাণ করে দিল, কেন শত বিতর্কের পরেও সলমন খান অনুরাগীদের কাছে শুধুই একজন অভিনেতা নন, বরং এক আবেগের নাম!