সাতের দশকের বলিউডের অন্যতম চর্চিত ও রহস্যময় ‘প্রেমকাহিনি’ নিয়ে কয়েক দশক পর বিস্ফোরক সব তথ্য সামনে এল। জিনাত আমন এবং সঞ্জয় খানের সেই বিতর্কিত সম্পর্ক, বিয়ে এবং তাজ হোটেলের সেই কুখ্যাত মারধরের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন সঞ্জয়ের মেয়ে ফারাহ খান আলি। একদিকে তিনি যেমন স্বীকার করে নিলেন যে তাঁর বাবা জিনাতকে বিয়ে করেছিলেন, ঠিক অন্যদিকেই জিনাতের চোখের ইনজুরি নিয়ে এক সম্পূর্ণ নতুন এবং আজব তত্ত্ব খাড়া করলেন ফারাহ।

সম্প্রতি দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ফারাহ খান আলি সরাসরি মেনে নেন যে তাঁর বাবা সঞ্জয় খান সেই সময় জিনাত আমনকে বিয়ে করেছিলেন। তখন সঞ্জয় বিবাহিত এবং তিন কন্যার বাবা (চতুর্থ সন্তান জায়েদ খান তখন মায়ের গর্ভে)।

সেই সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে ফারাহ বলেন, “হ্যাঁ, ওই সময় ওঁদের বিয়ে হয়েছিল। মুসলিম নিয়ম মেনেই বিয়েটা হয়েছিল এবং বাবা জিনাতকে বিচ্ছেদের দিয়েছিলেন মুসলিম নিয়ম মেনেই।”
১৯৭৯ সালে মুম্বইয়ের একটি পাঁচতারা হোটেলে এক পার্টিতে সঞ্জয় খান তাঁর স্ত্রী জারিন খানের সামনে জিনাত আমনকে নির্মমভাবে মারধর করেছিলেন— বছরের পর বছর ধরে বলিউডের অলিতে-গলিতে এই খবরই ঘুরে বেরিয়েছে। জিনাত আমন নিজেও নাম না করে বহুবার ‘প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতনের’ শিকার হওয়ার কথা বলেছেন। ২০২৩ সালে জেনাত তাঁর ডান চোখের ‘টোসিস’ নামক একটি সমস্যার অস্ত্রোপচার করান এবং জানান, ৪০ বছর আগের এক আঘাতের ফলেই তাঁর চোখের পাতাটি ঝুলে গিয়েছিল।

 

কিন্তু ফারাহ এই পুরো বিষয়টিকে ‘বোগাস’ বা আষাঢ়ে গল্প বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁর মা জারিন খান তাঁকে আসল সত্যিটা জানিয়েছেন। ফারাহর কথায়, “আমার মা বলেছিলেন জিনাতের মায়ের একটা চোখের রোগ ছিল... জিনাতের একটা চোখও একটু ছোট ছিল এবং এটা সম্পূর্ণ একটা জেনেটিক সমস্যা, যা ও বংশগতভাবে পেয়েছিল। সংবাদমাধ্যম যা লিখেছে তা নয়। বাবা জিনাতের গায়ে কোনওদিনও হাত তোলেননি।”

যদিও সেই ঘটনার ঠিক পরপরই জিনাত আমনের ছবি তোলা বিখ্যাত ফটোগ্রাফার জয়েশ শেঠ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাজ হোটেলের সেই ঘটনার পর জিনাতের চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। সেই ফোলা ও জখম চোখ নিয়েই জিনাত প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে বাঘিনীর মতো পোজ দিয়েছিলেন ক্যামেরার সামনে।


ফারাহ জানান, জিনাতের সঙ্গে তাঁর বাবার এই সম্পর্ক তাঁদের মা-বাবার সংসার প্রায় ভেঙে দিয়েছিল। সেই সময় তাঁর মা জারিন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। জায়েদ খানের জন্মের ঠিক পরপরই জারিন এক চরম সাহসী পদক্ষেপ নেন। তিনি সদ্যজাত সন্তানকে সঞ্জয় এবং পরিবারের কাছে রেখে ৩-৪ মাসের জন্য একা কোথাও চলে যান। ফারাহ বলে চলেন, “মা যখন ফিরে এলেন, তখন তাঁকে দেখতে লাগছিল ‘মিলিয়ন ডলার্স’। বাবা একদম চমকে গিয়েছিলেন। তখনই বাবা বুঝতে পারেন যে মা সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং নিজের মতো বাঁচতে পারেন। বাবার ওপর তিনি নির্ভরশীল নন। এই উপলব্ধিটাই বাবাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনে।”

বিগত কয়েক দশক ধরে জিনাত আমান এই ট্রমা নিজের মনে চেপে রেখেছিলেন। ১৯৯৯ সালে সিমি গারেওয়ালের শো-তে জিনাত বলেছিলেন, মন খারাপের অতীত ভুলে মানুষ যেভাবে বেঁচে থাকার অভিনয় করে, তিনিও তাই করেছিলেন। এখন ফারাহ খানের এই নতুন ‘জেনেটিক থিওরি’ এবং বিয়ের স্বীকারোক্তি এই পুরনো বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিল, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো আলোচনা শুরু হয়েছে।