শিবপুরে রীতিমত ঝড় তুলে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পদ্ম ফুটিয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। ১৬ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। ২০ রাউন্ড গণনার শেষে রুদ্রনীল ঘোষ ১৬,০৫৮ ভোটে জিতলেন। পিছনে ফেললেন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায় সহ বাকিদের। শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে রীতিমত চমক দেখালেন বিজেপির তারকা প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ। এরপর থেকেই টলিউডের 'হাওয়া বদল'-এর জন্য রুদ্রনীলের কাছে আর্জি জানাচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই। 

সমাজমাধ্যমে রুদ্রনীলের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, এবার যেন টলিউডের হাল ধরেন তিনি। রাজনীতির আড়ালে টলিপাড়ায় যে 'দাদাগিরি' চলে, সেই নিয়ে বহুবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন টলিউডের অনেকেই। বাংলায় এই পরিবর্তন আসায় আরও জোরালো হয়েছে এই আর্জি। তবে রুদ্রনীল ঘোষ এখনও পর্যন্ত টলিপাড়ার হাল ধরবেন কিনা তা নিয়ে কিছু জানাননি। যদিও এই একই আর্জি জানানো হয়েছে অন্যান্য জয়ী বিজেপি তারকা প্রার্থীদের কাছে। তালিকায় আছেন রূপা গাঙ্গুলি, পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী মুখার্জির নামও। 

এবার রুদ্রনীলকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হলেন পরিচালক জয়ব্রত দাস। রাজনীতিবিদ, অভিনেতার সপক্ষে পরিচালক লেখেন, 'রুদ্রনীল ঘোষকে নিয়ে এবার সিনেমার তৈরির জোয়ার আসতে চলেছে ! দেখবেন হঠাৎ করে, অসম্মভ দক্ষ এই অভিনেতাকে দীর্ঘ দিন ধরে কাজে না নেয়ার গিল্ট ট্রিপ সব্বাই কে দুম করে হিট করবে!' (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)

জয়ব্রতর প্রথম ফিচার ফিল্ম 'অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস'-এ দেখা গিয়েছিল রুদ্রনীল ঘোষকে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়েছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। কিন্তু ব্যাপক মার্জিনে তৃণমূলের কাছে পরাজিত হন। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির হয়ে শিবপুর কেন্দ্র থেকে লড়াই করছেন। তাঁর এবারের লড়াইয়ের স্লোগান 'জঞ্জালমুক্ত শিবপুর'। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় তাঁকে বিজেপি থেকে টিকিট দেওয়া হয়নি। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন রুদ্রনীল ঘোষ। প্রথমে তিনি বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিষদের চেয়ারম্যান হন। এরপর তিনি পদ্ম শিবিরে যোগ দেন।