কর্পোরেট দুনিয়া যখন কয়েক সেকেন্ডের ‘রিলস’ বা ছোট ভিডিওর নেশায় মত্ত, তখন শিল্পের গভীরতাকে কি সময়ের মাপকাঠিতে বাঁধা যায়? এই কঠিন প্রশ্নই তুলে দিলেন ‘কোল্ডফায়ার’-এর নির্মাতা ঋদ্ধি সেন। চার বছর আগে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ঘুরে বেড়ানোর পর, বড় বড় ওটিটি বা ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যাটফর্ম এই ছবিকে ফিরিয়ে দিয়েছিল একটি অদ্ভুত অজুহাতে— ছবিটির দৈর্ঘ্য নাকি আজকের দর্শকদের ধৈর্যের তুলনায় অনেক বেশি!
এই ছোটছবির পরিচালক ঋদ্ধি অকপটে স্বীকার করেছেন তাঁর প্রথম ছবির লড়াইয়ের কথা। তিনি জানিয়েছেন, প্রথমবার ছবি বানাতে গিয়ে তিনি কোনও ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’ কর্পোরেট বোর্ডের হিসেব কষেননি। তাঁরা চেয়েছিলেন এক আলাদা রকমের গল্প বলতে, কিন্তু সেই গল্পকে বাজারে ‘বিক্রি’ করার কৌশলী ছকটা হয়তো তাঁদের অজানাই ছিল। ফলস্বরূপ, দীর্ঘ সময় ধরে ছবিটি একপ্রকার অন্ধকারে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।

কিন্তু অন্ধকার ঘুচল সপ্তাহের এক কাজের দিনে। ‘ছায়ানট ফিল্ম অ্যান্ড থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল’ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে যখন ‘কোল্ডফায়ার’ প্রদর্শিত হলো, তখন ডঃ কে.পি. বসু মেমোরিয়াল হল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। একদল তরুণ তুর্কি ছাত্র যখন দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তিস’ কিংবা প্যালেস্তাইন প্রেক্ষাপটের ‘দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রজব’-এর মতো সাহসী ছবি শহরবাসীকে দেখাচ্ছে, সেখানে ‘কোল্ডফায়ার’ খুঁজে পেল তার হারানো সম্মান।
ঋদ্ধির ভাষায়, নিরাশা জুড়ে থাকা আজকের সময়ে এই ফেস্টিভ্যাল কেবল সিনেমা দেখানো নয়, বরং এক প্রকার ‘প্রতিরোধ’। যখন কর্পোরেট কংগ্লোমারেটরা ঠিক করে দেয় দর্শক কী দেখবে আর কী দেখবে না, তখন সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভিড় প্রমাণ করে দেয় যে ভাল ছবির টান আজও অমলিন। গতকালের সেই বিকেলে ‘কোল্ডফায়ার’ কেবল প্রদর্শিত হয়নি, বরং আরও একবার নতুন করে বেঁচে উঠল।
&t=2069s
















