২০২৪ সালের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুন করা হয়। এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। প্রতিবাদে রাতের পর রাত জাগেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকারা। প্রতিবাদের অংশ হয়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও। 

এবার জানা যাচ্ছে, আরজি কর কাণ্ডের চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের ঘটনায়, ঘটনার দিন রাতের, নৈশভোজ থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত ঘটনাক্রম কী ছিল, তার তদন্ত হবে পুনরায়। আর সেই তদন্ত করতেই সিট গঠনের নির্দেশ। তিন সদস্যের সিট গঠন করার নির্দেশ। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৫ জুন। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন শ্রীলেখা মিত্র। তদন্তের কাজ এগোনোর খবরে স্বস্তি পেয়েছেন অভিনেত্রী। 

আজকাল ডট ইন-কে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, "দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দরকার। যাতে এরকম কাজ করার কথা ভাবার আগে বুক কাঁপে। অভয়ার পরেও তো আরও অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমি চাই শুধু অভয়ার নয়, সেই সমস্ত ঘটনার তদন্ত হোক। দোষীরা শাস্তি পাক। সেই সময় প্রতিবাদ করতে গিয়েও অনেক বাধা এসেছিল। যদিও এসব আমার এখন সয়ে গিয়েছে। আমায় বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কুণাল ঘোষ এখন ভাল সাজছেন, তখন কুণাল ঘোষ, দেবাংশু বয়কটের ডাক দিয়েছিল। শুধু আমরা নই, যাঁরা প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন তাঁদের সবাইকে তৃণমূলের দাদা-দিদিরা হেনস্থা করেছেন নিশ্চয়ই। আমাদের কিছুজনের পরিস্থিতি সামনে এসেছে, কিছুজনের আসেনি। এই যা।"

শ্রীলেখা আরও বলেন, "শুধু তাই নয়,অভয়ার বাবা-মাকেই তো ওই জায়গায় একঘরে করে দিয়েছিল। একটা গোটা রাজ্য সেই সময় রেপ কালচার প্রোমোট করেছিল। প্রশাসন, পুলিশ সবাই মিলে প্রোমোট করেছিল। একটা এরকম ঘটনাকে যখন রাজ্য ধামাচাপা দেয়, তখন কিছু ক্রিমিনালের জন্ম হয়। এটা যারা সহজ বিষয় ভাবেন তাদের মাথার উপর নিশ্চয়ই দাদা-দিদির হাত থাকে। তাই খুন, রেপ, রাহাজানি এসব আরও বেড়েছিল। ক্রিমিনালরা জানত, তারা অপরাধ করে ছাড়া পেয়ে যাবে, তাই এত বাড়াবাড়ি হয়েছিল।"

প্রসঙ্গত, আদালত জানিয়েছে, ওই বিশেষ সময়ের ঘটনাক্রমের বাইরেও অন্যান্য ঘটনা নিয়ে যদি কোনও বিষয় খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেন তদন্তকারী আধিককারিকরা, তাঁরা তাও খতিয়ে দেখতে পারেন। গত বৃহস্পতিবারের আদালতের নির্দেশের পর, তদন্ত চালাবেন সিট-এর সদস্যরা। যার মাথায় থাকবেন, সিবিআর-এর পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তা।