২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া আরজি কর কাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্য, দেশকে। পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারত তো বটেই, অভয়ার বিচার চেয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পথে নেমেছিল মানুষ। অবশেষে রাজ্যে পালা বদল ঘটার সপ্তাহখানেকের মধ্যে এই কেস রিওপেন হল। শুধু তাই নয় ১৫ মে বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখার্জি এবং অভিষেক গুপ্তকে সাসপেন্ড করা হয়। কলকাতা পুলিশের এই ৩ সিরিয়াস অফিসারের আরজি কর কাণ্ডের সময় কী ভূমিকা ছিল সেটা খতিয়ে দেখা হবে।
আরজি কর কাণ্ডের সময় সহনাগরিকদের সঙ্গে পথে নেমেছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। সেই সময় দিনের পর দিন পথে নেমেছিলেন তাঁরা। যোগ দিয়েছেন রাত দখল সহ প্রতিবাদ মিছিলে। আজ পুনরায় কেস ওপেন হওয়ার পর তাঁদের কী প্রতিক্রিয়া খোঁজ নিল আজকাল ডট ইন।
অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, "প্রথম দিন থেকে আমাদের দাবি যা ছিল, আজও তাই আছে। অভয়ার বিচার হোক, দোষীরা শাস্তি পাক। এই বিচারের দাবি নিয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম। আন্দোলন করেছি, আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছি। কিন্তু সেটাকে আমল দেওয়া হয়নি। নানা ভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তাও আমরা চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। নতুন সরকার এসেছে, তাঁদের কাছে অনেক প্রত্যাশা আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছেন তাঁরা। যা যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, সেগুলো কার্যকরী হলে খুবই ভাল হয়। আজ জানলাম কেস রিওপেন হয়েছে, সেই সময় যে আইপিএস অফিসার ছিলেন, তাঁদের ৩ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, আশা করব এবার বিচার পাবে অভয়া। দাবি আজও একই, অভয়া বিচার পাক, দোষীদের শাস্তি হোক। সেটা হলে তো খুবই আনন্দের বিষয়।"
তথাগত মুখোপাধ্যায় কেস রিওপেন হয়েছে জেনেই বলেন, "এটা হওয়া দরকার ছিল। অনেকের মনেই তো সন্দেহ ছিল যে ঘটনাটার যথাযথ তদন্ত হয়নি। যে সমস্ত ডাক্তাররা আন্দোলনে ছিলেন, গোটা ঘটনাটা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন, আন্দোলনে ছিলেন তাঁরা কিন্তু বরাবরই বলেছেন যে আরও অনেক নাম আছে যেগুলোকে ঢাকা দেওয়া হচ্ছে। চাপা দেওয়া হচ্ছে। তাই সেখান থেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে মনে হয়েছে সত্যিই কোনও সত্য গোপন করা হয়েছে। তাই আবার যদি কেস রিওপেন করা হয়, যদি সত্য কিছু থেকে থাকে, চাই সামনে আসুক। তখনও এটাই চেয়েছি, এখনও এটাই চাই। যাঁরা প্রকৃত অপরাধী তাঁদের যেন চরমতম শাস্তি দেওয়া হয়। যাতে আর কখনও কেউ এমন অপরাধ করার কথা ভাবতেও না পারে। যে অপরাধীরা অপরাধ করার কথা ভাবছে, তারা সেটা যেন ভাবতেও না পারে।" তবে তাঁর আরও সংযোজন, কেবল সরকারের উপর নির্ভর করে থাকলে হবে না। তাঁর কথায়, "শুধু এটুকুই বলার, সরকারের উপর নির্ভর করে থাকলে হবে না। ব্যক্তিগত ভাবে সচেতন হতে হবে। আশেপাশে কোনও ছোটখাটো অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ করতে হবে। ছোটখাটো অন্যায় মুখ বুজে মেনে নিলেই কিন্তু সেটা আরজি করের মতো ঘটনাকে জন্ম দেয়। শুটিং স্পটে অপেক্ষাকৃত কোনও নতুন মেয়েকে যদি কেউ হ্যারাস করে, সেটা যদি আমি সিনিয়র অভিনেতা, পরিচালক হিসেবে যদি সহ্য করে নিই তাহলে কিন্তু আমি পরবর্তীকালের এই ধরনের একটা ভয়ঙ্কর ঘটনাকে প্রশ্রয় দিয়ে ফেলব। ছোটখাটো ঘটনায় প্রতিবাদ করলে এত বড় ঘটনা ঘটে না। আরজি করেও কিন্তু ছোটছোট নানা ঘটনা ঘটত, যার এতদিন কোনও প্রতিবাদ হয়নি। যার জন্য এত বড় একটা অপরাধ ঘটতে পেরেছে।"
আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তিন আইপিএস অফিসার সাসপেন্ড হওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, "আশা তো করছি বিচার পাওয়া যাবে। যাঁর সঙ্গে ঘটনাটি ঘটেছে, তাঁর মা সেই সময় বিধায়ক ছিলেন না, এখন তিনি বিধায়ক। আর বিধায়ক তো সাধারণ মানুষেরই প্রতিনিধি...। আশা করব, মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিচার পাবেন।"
















