মধ্যপ্রাচ্যর চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। জ্বালানি তেল ও লজিস্টিকসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয় করা, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়ানো এবং দায়িত্বশীলভাবে খরচের আবেদন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই সুরেই এবার সুর মেলালেন তামিল সুপারস্টার তথা রাজ্যসভার সাংসদ কমল হাসন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে সিনেমার বাজেট, মাত্রাতিরিক্ত খরচ এবং শুটিংয়ের সংস্কৃতি নিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎকে এক হাত নিয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

ভারতীয় সিনেমার বিলাসবহুল লাইফস্টাইল এবং কথায় কথায় বিদেশে শুটিং করতে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমল হাসন। তাঁর স্পষ্ট কথা, “কেন সব প্রেমের গল্পকে শুধুমাত্র প্যারিসেই ফুটতে হবে? আর সব হানিমুন কেন সুইজারল্যান্ডেই গিয়ে শেষ হতে হবে? সৌভাগ্যবশত, রোম্যান্স করার জন্য কোনও বিদেশি মুদ্রার প্রয়োজন হয় না। ভারতীয় সিনেমা এবং ভারতীয়দের নিজেদের ওপর এবং আমাদের এই সুন্দর দেশের ওপর আরও একটু ভরসা রাখা উচিত।” 

 

তিনি মনে করিয়ে দেন, ছবির বিশাল ক্যানভাস বা ‘স্কেল’ দেখানোর চক্করে যে বিপুল টাকা ওড়ানো হয়, তা আসলে অপচয়। অনেক কালজয়ী ছবি অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নয়, বরং শৃঙ্খলা এবং স্পষ্ট দূরদর্শিতা দিয়ে তৈরি হয়েছিল।  কমল হাসন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিশ্ববাজারের মন্দা এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগামী দিনে বিনোদন জগতে দর্শকদের খরচ করার প্রবণতা কমে যেতে পারে। ফলে সিনেমা টিকিয়ে রাখতে বাজেটে কাটছাঁট বা ‘ইকোনমিক কারেকশন’ করা অনিবার্য। তবে এই কাটছাঁটের মাশুল যেন গরীব টেকনিশিয়ানদের দিতে না হয়, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।

তিনি সাফ জানান, “সিনেমার অর্থনীতিতে কোনওরকম কাটছাঁট করতে গিয়ে যেন কখনই সাধারণ শ্রমিকদের মজুরি, নিরাপত্তা, আত্মসম্মান, খাবার, যাতায়াত বা তাঁদের মানবিক কাজের পরিবেশের ওপর কোপ না পড়ে। যাঁরা সবথেকে বেশি কঠোর পরিশ্রম করেন, এই অর্থনৈতিক সংকটের বোঝা তাঁদের ওপর চাপানো যাবে না।”

 

?ref_src=twsrc%5Etfw">May 15, 2026

 

 

 

শ্রমিকদের টাকা না কমিয়ে কমল হাসন বরং তারকাদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং অব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, বাজেট কমাতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি -

এন্টারেজ কালচার : তারকাদের সঙ্গে  থাকা ব্যক্তিগত সহকারীদের বিশাল বহর ও তাঁদের পেছনে হওয়া বিলাসবহুল খরচ বন্ধ করা।

শুটিং ডিসিপ্লিন: সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং শুটিংয়ে অহেতুক দেরি হওয়া বন্ধ করা।

বিকল্প ব্যবস্থা: বিদেশে যাওয়ার বদলে ভারতের ভেতরেই সুন্দর বিকল্প লোকেশন খুঁজে বের করা।

রিসাইকেল: সেটের জিনিসপত্র অপচয় না করে বারবার ব্যবহার করা এবং শক্তি সংরক্ষণ করা।

চলচ্চিত্র জগতের প্রযোজক, অভিনেতা, পরিচালক, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং সিনেমা হল মালিকদের এক ছাতার তলায় এসে এই সঙ্কট নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন কমল। তাঁর কথায়, “আজ যদি আমরা সিনেমার অর্থনীতিকে রক্ষা করি, তবেই সিনেমার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকবে। এটি ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে ওপরে রাখার সময়।”

২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ঠগ লাইফ’-এর সাফল্যের পর কমল হাসানকে আগামী দিনে দেখা যাবে নেলসন দিলীপকুমারের একটি নতুন ছবিতে, যেখানে তাঁর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করবেন তারকা রজনীকান্ত। এছাড়া নাগ অশ্বিনের ব্লকবাস্টার ছবি ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’-র সিক্যুয়েলে অমিতাভ বচ্চন ও প্রভাসের সাথে খলনায়ক ‘ইয়াসকিন’-এর ভূমিকায় শুটিং করছেন তিনি।