‘ধুরন্ধর’-এ রুক্ষ, আগুনে উপস্থিতিতে বক্স অফিস কাঁপানোর পর রণবীর সিং যেন থামতেই রাজি নন। সাফল্যের সেই ঢেউ গায়ে মেখেই এবার তিনি পা রাখতে চলেছেন একেবারে অচেনা, ভয়ংকর এক জগতে। পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপ্টিক জম্বি থ্রিলার ‘প্রলয়’। পরিচালনায় জয় মেহতা। যেখানে মুম্বই শহর আর চেনা মহানগর নয়, বরং ধ্বংসস্তূপে পরিণত এক ভবিষ্যতের দুঃস্বপ্ন।
এই ছবি বানানো সহজ নয়, আর সস্তাও নয়। বরং নির্মাতাদের লক্ষ্য, ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মুম্বই-কেন্দ্রিক ছবি বানানো। বলিউড হাঙ্গামাকে এক সূত্র জানায়, “পুরো মুম্বই শহরের ল্যান্ডস্কেপ নতুন করে ম্যাপ করা হচ্ছে। তারপর সেই কাঠামোর উপর দাঁড় করানো হচ্ছে পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপ্টিক বাস্তবতা। ধ্বংসের স্কেলটা হবে আ কোয়ায়েট প্লেস বা টোয়েন্টি এইট ডেজ লেটার -এর মতো আন্তর্জাতিক মানের।”
ছবি ঘরানার দিক থেকেও ‘প্রলয়’ বলিউডের চেনা পথে হাঁটছে না। আন্তর্জাতিক সিনেমায় টোয়েন্টি এইট ডেজ লেটার, আই অ্যাম লেজেন্ড , ওয়ার্ল্ড ওয়ার জি জম্বি-অ্যাপোক্যালিপ্সকে জনপ্রিয় করলেও, ভারতীয় মূলধারার সিনেমা এই অন্ধকার জগৎকে প্রায় এড়িয়ে এসেছে। গো গোয়া গন যেখানে জম্বিদের নিয়ে মজার মোড়কে গল্প বলেছিল, সেখানে ‘প্রলয়’ বেছে নিচ্ছে একেবারে বিপরীত রাস্তা -গভীর, নির্মম ও বাস্তবের কাছাকাছি হাড় কাঁপানো ভয়।
ছবির প্রেক্ষাপট একটি ভেঙে পড়া, পরিত্যক্ত মুম্বই। সেই শহরের ধ্বংস, পচন আর মৃত্যুর আবহ ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক এ আই-চালিত ভিজ্যুয়াল টেকনোলজি। পরিচালনায় রয়েছেন জয় মেহতা-হংসল মেহতার ছেলে এবং এটিই তাঁর প্রথম বড়পর্দার ছবি। এর আগে ‘স্ক্যাম ১৯৯২’ ও ‘লুটেরে’-র সহ-পরিচালক হিসেবে বাস্তবধর্মী গল্প বলার দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তিনি।
প্রযোজনায় রয়েছে হংসাল মেহতা ও সমীর নায়ারের অ্যাপ্লজ এন্টারটেইনমেন্ট, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ‘প্রলয়’ শুধুই স্পেকট্যাকল নয়, কনটেন্টের দিক থেকেও হবে সাহসী ও ব্যতিক্রমী।
এদিকে রণবীর সিং নিজেও রয়েছেন কেরিয়ারের অন্যতম সেরা সময়ের মধ্যে। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত স্পাই ড্রামা ‘ধুরন্ধর’-এ লম্বা চুল, রুক্ষ চেহারা আর ভয়ংকর তেজে এক গুপ্তচরের চরিত্রে তিনি কার্যত দাপট দেখিয়েছেন। আদিত্য ধর পরিচালিত এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অর্জুন রামপাল, অক্ষয় খান্না, সঞ্জয় দত্ত, আর. মাধবন ও সারা অর্জুন।বক্স অফিসে ‘ধূরন্ধর’ ইতিমধ্যেই ইতিহাস লিখে ফেলেছে। একক ভাষায় মুক্তি পাওয়া ভারতীয় ছবির মধ্যে এটি এখন সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি। যেখানে 'ছাবা' আয় করেছিল ৬০১ কোটি টাকা এবং জওয়ান ৫৮৬ কোটি টাকা, সেখানে ‘ধুরন্ধর’ দু’টিকেই ছাপিয়ে গিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ‘প্রলয়’ শুধু আরেকটা ছবি নয়, এটা রণবীর সিংয়ের কেরিয়ারের পরবর্তী বড় বাজি, আর বলিউডের জন্য এক সাহসী পরীক্ষা। মুম্বই কি সত্যিই বদলে যাবে জম্বিদের শহরে? সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা ইন্ডাস্ট্রি।
