বলিউডের বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম 'সুপারস্টার' রণবীর কাপুর। আজ তিনি যে সাফল্যের শিখরে অবস্থান করছেন, তার পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে সঞ্জয় লীলা বনশালি পরিচালিত 'সাওয়ারিয়া' ছবির মাধ্যমে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রণবীর তাঁর সেই শুরুর দিনগুলোর এক অমলিন স্মৃতির কথা শেয়ার করেছেন। বিশেষ করে তাঁর প্রথম সহ-অভিনেত্রী রানি মুখার্জির দেওয়া একটি বিশেষ উপদেশের কথা আজও রণবীরের মনে গেঁথে আছে।

 

বর্তমানে রানি তাঁর অভিনয়জীবনের ৩০ বছর পূর্ণ করলেন। তাই অভিনেত্রীকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিচ্ছে বলিপাড়া। এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রণবীর স্মৃতির পাতা হাতড়ালেন।


রণবীরের মতে, নবাগত হিসেবে যখন তিনি সেটে পা রেখেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন বেশ কিছুটা নার্ভাস। সেই সময় রানি মুখার্জি ছিলেন বলিউডের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। রণবীর জানান, শুটিংয়ের ফাঁকে রানি তাঁকে কাছে ডেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন। রানি তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ফিল্মি পরিবার থেকে আসার কারণে সুযোগ পাওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু টিকে থাকাটা সম্পূর্ণ নিজের ওপর।

 

রণবীর সাক্ষাৎকারে বলেন, "রানি আমার প্রথম ছবি ‘সাওয়ারিয়া’-র সহ-অভিনেত্রী। তিনিই প্রথম আমাকে বলেছিলেন যে, আমি যদি কঠোর পরিশ্রম করি তবে অনেক দূর এগোতে পারব। সেই কথোপকথনের কথা আমি কোনওদিন ভুলব না, কারণ যখন আমার আত্মবিশ্বাসের খুব প্রয়োজন ছিল, তখন তাঁর সেই কথাগুলোই আমাকে ভরসা জুগিয়েছিল। আমি তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, তাঁর কাজও খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করেছি; তাঁর মার্জিত স্বভাব, মায়া আর অসামান্য প্রতিভা দেখে আমি বারবার মুগ্ধ হয়েছি।"

 


রণবীর স্বীকার করেছেন যে, রানির সেই সোজাসাপ্টা কথাগুলো তাঁর চোখ খুলে দিয়েছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, 'স্টারকিড' তকমা দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা পাওয়া সম্ভব নয়।

 

উল্লেখ্য, 'সাওয়ারিয়া' বক্স অফিসে খুব একটা সফল না হলেও রণবীরের অভিনয় সমালোচকদের নজর কেড়েছিল। এরপর 'রকস্টার', 'বরফি', থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক 'অ্যানিম্যাল'— প্রতিটি ছবিতেই রণবীর প্রমাণ করেছেন কেন তিনি রানির সেই উপদেশ আজও অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন।


রণবীর আরও বলেন, "রানি সবসময়ই খুব বাস্তববাদী। তিনি আমাকে শিখিয়েছিলেন যে সাফল্যের কোনও শর্টকাট নেই।" বর্তমানে রণবীর তাঁর আসন্ন প্রজেক্ট 'রামায়ণ' এবং 'লাভ অ্যান্ড ওয়ার' নিয়ে ব্যস্ত। তবে কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসেও তিনি মনে করেন, শুরুর দিকে পাওয়া সেই শিক্ষাগুলোই আজ তাঁকে একজন পরিণত মানুষ ও অভিনেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে।