বলিউডে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর কাজের সময় নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কে এবার স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান জানালেন অভিনেত্রী রাধিকা আপ্টে। কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে মুখ খুলে তিনি জানালেন, সুযোগ পেলে তিনি সবার আগে ইন্ডাস্ট্রির কাজের সময়সূচিই বদলে দিতেন! শুধু অতিরিক্ত নয়, তার সঙ্গে দীর্ঘ শিফটে কাজ করতে অস্বীকার করায় একাধিক প্রযোজকের সঙ্গে তাঁর তর্কও হয়েছে বলে স্বীকার করলেন অভিনেত্রী।

 

সম্প্রতি, দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাধিকা জানান, বিশেষ করে একজন সন্তানের মা হিসেবে এই লড়াই আরও কঠিন। তাঁর কথায়,
“শুরুতেই আমি কাজের সময় বদলাতাম। কারওর থেকে এটা আশা করা উচিত নয় যে সে টানা একটা সপ্তাহ নিজের সন্তানের মুখ দেখবে না। দীর্ঘ শিফটে কাজ করতে অস্বীকার করায় আমাকে বহুবার কথা কাটাকাটিতে জড়াতে হয়েছে। লড়াইটা কতটা কঠিন, তা শুনলে অনেকেই অবাক হবেন। আর অনেকে বলেন, ন্যানি রাখুন, সেটে নিয়ে আসুন। আমি দুঃখিত, কিন্তু সেটা কোনও সমাধান নয়।”

 

 

রাধিকা জানান, এখন তিনি কাজের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছেন, যা অনেকের পছন্দ হয়নি। তাঁর দাবি, সুস্থ মানসিক ও শারীরিক অবস্থার জন্য একটা নির্দিষ্ট কাঠামোবদ্ধ কাজের সময় অত্যন্ত জরুরি। রাধিকার কথায়, “আমি ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারি না। এর মধ্যে সেটে যাতায়াত, হেয়ার স্টাইলিং, মেকআপ, সবই ধরা আছে। যদি যাতায়াতে দু’ঘণ্টা লাগে, তাহলে সেই অনুযায়ী শিফট প্ল্যান করতে হবে। অবশ্যই ব্যতিক্রম হতে পারে, কিন্তু এর থেকে আমি একচুলও সরব না। সাপ্তাহিক ছুটি চাই, আর আদর্শভাবে সপ্তাহে পাঁচ দিনের বেশি কাজ করতে চাই না। যদি ছোট ছবি হয়, যেখানে সত্যিই অন্যভাবে সম্ভব নয়, সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু সাধারণভাবে আমি পাঁচ দিনের কাজ আর ১২ ঘণ্টার শিফটের পক্ষেই,” বলেন রাধিকা।

 

বলিউডে কাজের সময় নিয়ে এই বিতর্ক নতুন করে জোরদার হয় গত বছর, যখন খবর আসে যে পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা প্রভাস অভিনীত ‘স্পিরিট’ ছবি থেকে দীপিকা পাড়ুকোনকে বাদ দিয়েছেন। রিপোর্টে দাবি করা হয়, দীপিকার কিছু শর্ত -কম কাজের সময়, বেশি পারিশ্রমিক ও লাভের অংশীদারিত্ব...আর এসব নাকি পরিচালকের ভাবনার সঙ্গে মেলেনি। নতুন মা হিসেবে দীপিকা তখন কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য খুঁজছিলেন বলেই জানা যায়।

 

এই ঘটনার পর থেকেই বলিউডে মানবিক কাজের পরিবেশ নিয়ে একাধিক শিল্পী মুখ খুলেছেন। অভিনেতা বিক্রান্ত ম্যাসি, রশ্মিকা মন্দানা, ইয়ামি গৌতম এবং পরিচালক অনুরাগ বসু প্রকাশ্যে দীপিকার পাশে দাঁড়িয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে স্বাস্থ্যকর কাজের সময়সূচির পক্ষে সওয়াল করেছেন।

 

রাধিকা আপ্টের মন্তব্য সেই ধারাবাহিক আলোচনাকেই আরও জোরালো করল যেখানে প্রশ্ন উঠছে, তারকাখ্যাতির আড়ালে আদৌ কতটা মানবিক বলিউডের কাজের পরিবেশ?