গুগল সার্চে এখন ভালবাসার মরশুম৷ যদি আপনি লিখে ফেলেন সেই ম্যাজিকাল তিন শব্দ "পাঞ্চ দ্য মাংকি" তাহলেই প্রতিনিয়ত ভেসে আসছে হাজার হাজার হৃদয় চিহ্ন। আপনার ক্ষেত্রেই ভালবাসা বর্ষিত হচ্ছে তা কিন্তু নয়৷ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে "পাঞ্চ দ্য মাংকি"। যে কারণে আপনার পরিচিত সার্চ পেজেও এসেছে এই বিশেষ পরিবর্তন।  

কে এই বানর?  এটি একটি সাত মাস বয়সী জাপানি বানরছানা যার নাম পাঞ্চ৷ 

গুগলে "পাঞ্চ দ্য মাঙ্কি" - এই শব্দবন্ধ লিখলেই আপনাকে ভালবাসার ভেলায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবে এই মজাদার অ্যানিমেশন৷ আচমকা এই উপহার পেয়ে বিশ্বজুড়ে গুগল ব্যবহারকারীরাও খুশি এবং মুহূর্তের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই জাপানি বানরছানা। 

তথ্য বলছে, বিশ্বজুড়ে ৯০ লক্ষের বেশি মানুষ এই বানরছানাকে ভালবেসেছেন৷ সমাজমাধ্যম জুড়ে মানুষেরা বানরছানার জন্য রেখে যাচ্ছেন স্নেহ (লাভ রিঅ্যাক্ট) আর যত্ন ( কেয়ার রিঅ্যাক্ট)।

একটা ভালবাসায় ভরা হার্ট চিহ্নের মধ্যে মিষ্টি ছোট্ট বানরছানার মুখ, যার দু'চোখ ভরা স্নেহে আবিষ্ট হওয়া মুহূর্তের অপেক্ষা৷ 

গুগল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে এই ধরণের ফিচার ব্যবহারকারীদের জন্য হাজির করে৷ কখনও সিনেমার প্রচার, কখনও খেলার প্রচার আবার কখনও গুরুত্বপূর্ণ কোনও ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্যবহারকারীদের নজর টানতে গুগল এই ফিচারটির ব্যবহার করে৷ 

কিন্তু এই বানরছানা নেটদুনিয়ায় প্রায় সকলকে এক সূত্রে গেঁথে দিয়েছে৷ যাকে নিয়ে এত আলোচনা, সেই পাঞ্চ মাঙ্কি কে?  

আদুরে এই জাপানি বানরছানার জন্ম ২০২৫ সালের জুলাইতে৷ ইচিকাওয়া  চিড়িয়াখানায় জন্মগ্রহণ করে এই বানর৷ কিন্তু জন্মের পরেই মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়৷ মা তাকে ছেড়ে চলে গেলে অসহায় হয়ে পড়ে সদ্যোজাত বানর৷ চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা এক ব্যক্তির নজরে এলে তিনি কর্তৃপক্ষকে জানান৷ 

সাধারণত জন্মের পর বানরছানা মায়ের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে থাকে৷ মায়ের সঙ্গে এই গভীর সংযুক্তি তার সুরক্ষা এবং সুস্বাস্থ্য গঠনে সাহায্য করে৷ কিন্তু পাঞ্চ সেই সুরক্ষাবলয় থেকে বঞ্চিত হওয়ায় চিড়িয়াখানায় তার বিশেষ খেয়াল রাখার ব্যবস্থা করা হয়৷ 

এই খুদে বানরের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মুম্বই পুলিশ ১১২ ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন নম্বরের প্রচার করেছেন৷ অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত প্রয়োগ করে মুম্বই পুলিশ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে লিখেছেন জাস্ট পাঞ্চ ইন ১১২। এই প্রচার সাধারণ মানুষকে আরও একবার মনে করাচ্ছে, সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে৷ তাই মানুষ হয়ে অন্য মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন শুধু একটা পাঞ্চ।