বলিউড হোক বা টলিউড, সর্বত্র ছাপ রেখেছেন তিনি। ছোটপর্দায় তিনি 'মহাগুরু', কারও কাছে আবার 'ডিস্কো ডান্সার'। তাঁর নাচের জাদু থেকে অভিনয় সবেতেই মুগ্ধ আপামর দেশবাসী। চলচ্চিত্র জগতে অবদানের জন্য পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার, পদ্মভূষণ। কথা হচ্ছে মিঠুন চক্রবর্তীর। কিন্তু জানেন কি, এক সময় তাঁকে রাস্তায় দিন কাটাতে হয়েছে। ছিল না খাবার মতো টাকাও? হ্যাঁ, সম্প্রতি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন তাঁর ছেলে মিমো চক্রবর্তী। 

সম্প্রতি একটি পডকাস্ট শোয়ে অংশ নিয়েছেন মিমো। সেখানেই তিনি বলেন, 'বাবার সংগ্রামের গল্প আমার গায়ে কাঁটা দেওয়ায়। উনি আমায় বলতেন, তিনি এমনও সময় কাটিয়েছেন যেখানে কোনও বাড়ি বা শেডের তলায় নয়, বরং রাত কাটিয়েছেন পার্কে। পুলিশ এসে ওঁকে মারত, মেরে ওখান থেকে তাড়িয়ে দিত। পার্কে ঘুমানো অ্যালাও নয় বলে তাঁকে সেখান থেকে ভাগিয়ে দিত। তখন তাঁকে আবার উঠে গিয়ে অন্য জায়গা খুঁজতে হতো।' 

তবে মিঠুন চক্রবর্তী যে কেবল খ্যাতি পাওয়ার আগে এই স্ট্রাগল করেছেন সেটা নয়, তাঁর একটা পরিচিতি হওয়ার পর, এমনকী জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরও তাঁকে একই রকম ভাবে দারিদ্র্য সহ্য করতে হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে মিমো বলেন, 'ওঁর প্রথম ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর এক সাংবাদিক ওঁর সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওঁকে খুঁজে পাননি। যখন অনেক খুঁজে তিনি জানতে পারেন মিঠুন চক্রবর্তী কোথায় থাকেন তখন তাঁর সঙ্গে গিয়ে কথা বলেন। বাবা তখন ওঁকে বলেন, আপনাকে তখনই সাক্ষাৎকার দেব জ যখন আপনি আমার একটি শর্ত পূরণ করবেন। আগে আমায় খাবার কিনে দিন। আমি খাইনি কিছু।' 

মিমো এদিন জানান, তিনি তাঁর বাবা এই ঘটনাগুলো সবসময় মনে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, এগুলোই তাঁকে শক্তি দিয়েছে সমালোচনা সহ্য করা এবং নেগেটিভ মন্তব্য সহ্য করার জন্য। যখনই তিনি কোনও সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন তখনই তিনি এই কথাগুলো স্মরণ করেছেন। এবং শক্তি পেয়েছেন।