মিল্টন সেন: তিন বছরের বিরতির পর বড়পর্দায় ফিরছে বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাডভেঞ্চার ফ্র্যাঞ্চাইজি-‘কাকাবাবু’ ও ‘সন্তু’। নতুন রহস্য, নতুন গন্তব্য আর ইতিহাসের গভীর ছোঁয়া নিয়ে ফের কাকাবাবুর কিস্তিমাত দেখতে প্রস্তুত দর্শক। এবার ছবির নাম ‘বিজয়নগরের হীরে’। পরিচালনায় চন্দ্রাশিস রায়, প্রযোজনায় এসভিএফ। আর পর্দায় আরও একবার কিংবদন্তি চরিত্র কাকাবাবু’র ভূমিকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
এবার কাকাবাবুর যাত্রা দক্ষিণ ভারতের ঐতিহাসিক শহর হাম্পি। বড়দিনে প্রকাশ্যে আসা ছবির প্রথম ঝলকেই স্পষ্ট এবারের গল্প শুধু রহস্যভেদে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে ইতিহাস, গুপ্তধন আর টানটান অ্যাকশন। প্রথম ঝলকে কাকাবাবুকে ‘লিভিং লেজেন্ড’ বলা হলে, স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় প্রসেনজিৎ জানান, “লেজেন্ড নই, তবে আপাতত লিভিং।” একইসঙ্গে ছবির গল্পে তাঁর চরিত্রকে মারার চেষ্টার ইঙ্গিতও মেলে। কিন্তু কারা তাঁকে মারতে চাইছে? কেন? সেই প্রশ্নই রহস্যের কেন্দ্রে।

অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার, গুপ্তধনের খোঁজ আর ইতিহাস-সব মিলিয়ে কাকাবাবু এবারও ধরা দেবেন তাঁর চেনা স্বমহিমায়। ছবির ‘যাত্রা শুভ হোক’ গান ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে জনপ্রিয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, কাকাবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিটি ছবির এক বা দু’টি গান আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে শ্রোতাদের মনে। নির্মাতাদের দাবি, শিশুদের কথা মাথায় রেখে তৈরি হলেও এই ছবি সব বয়সের দর্শকই উপভোগ করতে পারবেন।

সোমবার চুঁচুড়া টেকনো ইন্ডিয়া পাবলিক স্কুলে ছবির প্রচারে এসে ‘বিজয়নগরের হীরে’ নিয়ে নিজের ভাবনা ভাগ করে নেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়,“বাংলা সাহিত্য মানেই শিশু সাহিত্যের খনি। বাংলায় শিশুসাহিত্য অফুরন্ত। ‘কাকাবাবু’ সিরিজ সেই সাহিত্যকে এক্সপ্লোর করারই একটা চেষ্টা। আমার পরে হয়তো অন্য কেউ এই সিরিজটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এভাবেই বাংলা শিশু সাহিত্য মানুষের মনে জায়গা করে নেবে।”

ছবির প্রচারের পাশাপাশি এদিন স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মতিথি উপলক্ষেও স্কুলে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ, পরিচালক চন্দ্রাশিস রায়, সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, অভিনেতা আরিয়ান ভৌমিক, কুশল দাশগুপ্ত ও স্কুলের অধ্যক্ষ দেবায়ন দত্ত। পড়ুয়াদের গান আর উষ্ণ অভ্যর্থনায় মুখর হয়ে ওঠে গোটা প্রাঙ্গণ। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে গান গাইতে দেখা যায় গায়ক দুর্নিবার সাহাকেও।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত আসে, যখন নবম শ্রেণির ছাত্রী মৌবনী মাইতির স্যাক্সোফোনে ‘অমরসঙ্গী’ ছবির সেই বিখ্যাত সুর শুনে আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রসেনজিৎ। আবেগমথিত কণ্ঠে জানান, প্রায় চার দশক আগের এই গান তাঁর কাছে শুধুই একটি গান নয়, বরং এক গভীর স্মৃতির অংশ।
ছবি প্রসঙ্গে পরিচালক চন্দ্রাশিস রায় বলেন,“এই প্রথম আমি কাকাবাবু সিরিজের কোনও ছবি পরিচালনা করছি। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আগের তিনটি ছবি বিদেশে শুট হলেও ‘বিজয়নগরের হীরে’ সম্পূর্ণ দেশেই শুট করা হয়েছে। আমি নিশ্চিত, আদ্যপান্ত অ্যাডভেঞ্চার ড্রামা হিসেবে এই ছবি সব বয়সের দর্শকের মন জয় করবে।”
রহস্য, ইতিহাস আর আবেগ, সব মিলিয়ে ‘বিজয়নগরের হীরে’ যে কাকাবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে, সে ইঙ্গিত স্পষ্ট।
