স্বজনপোষণ বিতর্কে বারবার বিদ্ধ হয়েছে বলিউডের একাধিক তাবড় নাম। তবে সেই আলোচনার বাইরে নেই টলিউডও। তারকা-সন্তানেরা মা-বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করলেই অনেক সময় ধেয়ে আসে কটাক্ষের ঝড়। সহজেই সবকিছু থালায় সাজিয়ে পাওয়ার অভিযোগে তাঁদের কাঠগড়ায় তোলা হয়, প্রশ্ন ওঠে যোগ্যতা আর পরিশ্রমের মানদণ্ড নিয়েও। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে তৃষাণজিৎ ওরফে মিশুককে নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শোনা যাচ্ছে, বাবার মতোই অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে চলেছেন তিনি। তারকা-সন্তান হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার আগেই তাঁকে ঘিরে কৌতূহল, প্রত্যাশা ও সমালোচনা, সবই দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রসেনজিৎ। তিনি জানান, ছেলে মিশুক এখন অভিনেতা হয়ে ওঠার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে। ছেলের স্বপ্নপূরণে তিনি পাশে থাকলেও, পর্দায় হাতেখড়ির ক্ষেত্রে তারকা বাবার কোনও রকম হস্তক্ষেপ থাকবে না, এ কথাও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “ও যদি অভিনেতা হতে চায়, ওকেও আর দশজন অভিনেতার মতোই ওই জার্নিটার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যেটা ও করছে। বম্বে যাচ্ছে, ভাল ভাল মানুষদের কাছে সাতদিন-আটদিন করে ওয়ার্কশপ করছে।”

প্রসেনজিৎ জানান, ইতিমধ্যেই অভিনেতা হিসাবে পরিণত হওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছেন ছেলে মিশুক। নিজেকে সব দিক থেকেই প্রস্তুত করছেন তিনি। অভিনেতার বলেন, “এই জায়গাটা খুব কঠিন। শুধু ভাগ্যের উপর নির্ভর করে কিছু হয় না। তাই ও প্রস্তুত হোক। যেদিন ও বুঝবে, ও ওর মতো করে আসতে পারবে, আসবে। আমি ওকে বলে দিয়েছি, এই জায়গাটা একটা যুদ্ধক্ষেত্র। লড়াই করতে হবে। এর মধ্যে ভাল থাকবে, মন্দ থাকবে। তোমাকে লড়াই করতে হবে।”

পুজোয় মুক্তি পাওয়া ‘দেবী চৌধুরাণী ‘র সাফল্যের পর নতুন ছবি নিয়ে বড়পর্দায় ফিরছেন প্রসেনজিৎ। ফের জনপ্রিয় চরিত্র ‘কাকাবাবু’র ভূমিকায় তাঁকে দেখা যাবে। চলতি মাসেই মুক্তি পেতে চলেছে ‘বিজয়নগরের হীরে’। আপাতত তারই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত অভিনেতা।

যাঁকে সবাই ‘ইন্ডাস্ট্রি’ বলে সম্বোধন করে, সেই মানুষটাই যেন ‘কাকাবাবু’ চরিত্রটির সুবাদে খুদেদের কাছে নিখাদ বন্ধু। শুধু তা-ই নয়। অভিনেতা জানান, তাঁর কাছে নানা প্রশ্নও ছুড়ে দেয় তারা। মিশে যায় বন্ধুর মতো। প্রসেনজিৎ বলেন, “ছবিটির প্রচারের জন্য আমরা একটা স্কুলে গিয়েছি। সেখানে সবাই আমাকে কাকাবাবু বলে ডাকছে। আমি একটি রেস্তরাঁয় গিয়েছি। একটা বাচ্চা এসে আমায় জিজ্ঞাসা করছে, ‘তোমার ক্রাচ কোথায়?’। আমি কোনও অনুষ্ঠানে গেলে বাচ্চারা জিজ্ঞাসা করে, ‘তুমি তোমার লাঠিটা আনোনি?’ এগুলো থেকে আমি অভিনেতা হিসাবে অনুপ্রেরণা পাই। কারণ ওদের সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না।”