মেদিনীপুরে তাঁর বড় হওয়া। বিয়ে হয়েছে হালিশহরে। স্বামীর কর্মসূত্রে থাকেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। সেই সূত্রে তিনিও এখন আমেরিকাবাসী। তিনি হলেন ভ্লগার মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায়। ‘প্রবাসে ঘরকন্না’র মহুয়া নামেই তাঁর পরিচয় চারিদিকে। জনপ্রিয়তা এবং বিতর্ক যেন হাত ধরাধরি করে চলে তাঁর নামের সঙ্গে। ‘নমস্কার কেমন আছেন সবাই’ এই লাইন দিয়ে শুরু হয় তাঁর রোজকারের ভ্লগিং। কোন শাক টাটকা না বাসি, প্রতিবেশী বেশি কথা বলে কি না, আমেরিকার মেয়েরা কানে ফুটো করান কি না অথবা স্বামীর সঙ্গে আধো-আধো কথাবার্তা থেকে শুরু করে তাঁদের অন্দরমহলের নানান কীর্তি -এসবই পেটি ও চটুল ব্যাপার হয়ে ওঠে তাঁর ভ্লগিংয়ের প্রধান বিষয়। তবে এবার যা তিনি করলেন, তা দেখে শিউরে উঠেছে নেটপাড়া। রীতিমতো বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে অধিকাংশ নেটিজেন। তবে যারা হননি তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ-ই এই ভ্লগারকে ট্রোল থেকে কটাক্ষ শুরু করেছেন! ঠিক কী করেছেন ‘প্রবাসে ঘরকন্না’র এই ভ্লগার? নিজের শাশুড়ির মৃতদেহ দেখানো থেকে শুরু করে তাঁর দাহ করার পদ্ধতি যেভাবে বিশ্লেষণ করলেন, তা দেখেশুনেই মেজাজ হারিয়েছে নেটপাড়া। উঠেছে বিতর্কের তুফান। 


ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শাশুড়ির মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে ফিরছেন এই ভ্লগার। সঙ্গে তাঁর স্বামী ও তাঁদের কিশোরী মেয়ে। ফুলে সজ্জিত মৃত্যুশয্যায় শাশুড়ির নিথর দেহ দেখানোর পর স্বামীর কান্নাকাটির মুহূর্তের দৃশ্য যেমন এলোমেলোভাবে উঠে এসেছে তাঁর ভ্লগে, তেমনই খানিক আবেগতাড়িত হতে দেখা গিয়েছে তাঁকেও। অর্থাৎ এককথায় ব্যক্তিগত জীবনের দরজা হাট করে খুলে অন্দরমহলের একান্ত নিজস্ব মুহূর্তগুলোকে বেআব্রু করে দিয়েছেন তিনি। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে গিয়েছে শাশুড়ির দেহ দাহ হওয়ার পর নিজের কিশোরী মেয়ের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন। যখন সেই মেয়েটি তাঁকে নিজের 'ঠাম্মি'র বিষয়ে জিজ্ঞেস করছেন, তখন 'প্রবাসে ঘরকন্না' ভ্লগার অম্লানবদনে বলে ওঠেন, “তোমার ঠাম্মির দেহকে দাহ করা হয়েছে, যদিও আমাদের সামনে করা হয়নি আগেকার আমলের মতো। চুল্লিতে করা হয়েছে ঠাম্মির দাহকাজ। চুল্লি হল অনেকটা....ওই কেক ওভেনের মত। কেক-টেক যেভাবে বেক করা হয় ওভেনে সেরকমই অনেকটা বড় একটা ওভেন হিসেবে ভাবতে পারো চুল্লিকে...”  

 

 

স্বভাবতই এসব কথা শোনার পরেই মেজাজ হারিয়েছে নেটপাড়া – “দুষ্টু লোকের মিষ্টি কথা! মানুষ কত নীচে নামতে পারে দেখলাম”, কেউ বা লিখলেন, “মানুষের কতটা মতিভ্রম হলে ইলেকট্রিক চুল্লিকে বলতে পারে কেক ওভেন? কেক ওভেন যেটা বেক করা হয় সেই জিনিসটা  একটা ইন্ডিয়ান বড়ো মেয়েকে এইভাবে ইলেকট্রিক চুল্লিকে কেক ওভেনের সাথে তুলনা করে বোঝানো হয়? মানে এইটাও কি সবাই সমর্থন করে? মানে তার বাড়ির লোকজন, গুরুজনরাও কি তার জ্যাঠা, কাকা, বাবারাও কি এরকমভাবে বোঝাবেন তাদেরইতো মা  তাদের মাকে কেক ওভেনের মধ্যে এরকম এ করা হয়েছে? মানে মানুষের এত টাকার নেশা videor নেশা? এই গুলো video  করে এই ভাবে?" নজর কেড়েছে আরও একটি মন্তব্যও – “মৃত্যুটা এদের কাছে কন্টেট। কোথায় এগিয়ে চলেছি আমরা?”

গোটা বিষয়ে কিন্তু এখনও কোনও মন্তব্য করেননি ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ ভ্লগার।