ইন্টারনেটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই এমন নানা চমকপ্রদ দাবি চোখে পড়ে—যেখানে বলা হয়, সপ্তাহে কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক, যৌনতা না রাখলে মানুষ নাকি মারাত্মক মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে! কিন্তু সত্যিই কি তাই? আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য নির্দিষ্ট কোনও  সংখ্যার ওপর নির্ভর করার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

সেক্স সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে যে, শারীরিক সম্পর্ক কোনও শারীরিক বা মানসিক বাধ্যবাধকতা না হলেও, ইতিবাচক অন্তরঙ্গতা ও মানসিক সংযোগ মানুষের মুডকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। শারীরিক ঘনিষ্ঠতার সময় মস্তিষ্কে বেশ কিছু বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা টগবগে সুস্থতার অনুভূতি দেয়:

ডোপামিন : এটি মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমের সঙ্গে কাজ করে এবং মেজাজ ও অনুপ্রেরণা নিয়ন্ত্রণ করে।

সেরোটোনিন : এটি মুড স্টেবিলাইজার হিসেবে কাজ করে, যা সুখ এবং সুস্থতার অনুভূতি বাড়ায়।

অক্সিটোসিন : এটিকে ‘বন্ডিং হরমোন’ বলা হয়, যা মানুষের মধ্যকার সম্পর্ককে দৃঢ় করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। মানসিক সুস্থতা কেবল একটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না, এর জন্য প্রয়োজন ঘুমের গুণমান, মানসিক চাপের মাত্রা, সামাজিক সংযোগ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মতো বহু বিষয়ের ভারসাম্য।

 

 

মানসিক সুস্থতার আসল চাবিকাঠি -

দীর্ঘমেয়াদী মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে জীবনযাত্রার ভারসাম্য অনেক বেশি জরুরি। 


সুস্থতার নিয়ামক:  মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব 


পর্যাপ্ত ঘুম:    মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে এবং আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।


মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: কর্টিসলের মাত্রা কমায় এবং ক্লান্তি বা বার্নআউট রোধ করে। 


সামাজিক যোগাযোগ:  একাকীত্ব দূর করে এবং মানসিক সমর্থনের জোগান দেয়। 

জীবনযাত্রার ধরন: সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মানুবর্তিতা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। 

 

সহজ কথায়, দিনের শেষে অন্তরঙ্গতা, যৌনতা অবশ্যই জীবনের একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে, তবে মানসিক স্বাস্থ্য কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বা সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক সুস্থতা নির্ভর করে সুষম সম্পর্ক, স্বাস্থ্যকর রুটিন এবং আবেগের সঠিক পরিচর্যার ওপর।