দক্ষিণী অভিনেত্রী প্রিয়ামণি রাজ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলিউডে কাজ পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ এবং ‘জওয়ান’ এর মতো কাজের মাধ্যমে হিন্দি বলয়ে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেও নাকি তেমন সুযোগ পাননি তিনি। সম্প্রতি নিজের বলিউড কেরিয়ার নিয়ে কিছু অকপটে কথা বলেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, মণি রত্নমের ‘রাবণ' ছবির পর তিনি আশা করেছিলেন বলিউডে তিনি আরও অনেক সুযোগ পাবেন। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছিল, তা ছিল তাঁর প্রত্যাশার চেয়ে একেবারেই আলাদা। অভিনেত্রী জানান, ‘রাবণ’ ছবিতে কাজ করাটা তাঁর কাছে ছিল একটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। মণি রত্নমের মতো পরিচালকের ছবিতে অভিনয় করার পর তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে সাদরে গ্রহণ করবে। কিন্তু সেই সময় বলিউডে তাঁর কাছে সেভাবে কাজের প্রস্তাব আসেনি।
এই প্রসঙ্গে কিছুটা আক্ষেপের সুরেই অভিনেত্রী বলেন, "আমি সত্যিই ভেবেছিলাম রাবণ-এর পর বলিউডে আমার ব্যস্ততা বাড়বে। কিন্তু অজ্ঞাত কোনও কারণে চিত্রনাট্যকার বা পরিচালকদের নজরে আমি সেভাবে আসিনি। হয়তো সেই সময় বলিউডের চাহিদা বা সমীকরণ আলাদা ছিল।"
তবে এই দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয়ামণির কেরিয়ারে বড় 'টার্নিং পয়েন্ট' হয়ে আসে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। মনোজ বাজপেয়ীর বিপরীতে ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান’ সিরিজে 'সুচিত্রা' চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এরপর শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘জওয়ান’ ছবিতে তাঁর উপস্থিতিও নজর কাড়ে।
কেরিয়ারের শুরুর দিকের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "শুরুতে কেউই নিখুঁত থাকে না। সেই সময়ে গ্রুমিং বা পরিপাটি হওয়ার মানে কী, তা-ও আমি জানতাম না। যখন আমি কেরিয়ার শুরু করি তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর, আর আমার পরিবারের কেউ এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। আমাকে পথ দেখানোর মতো কোনও অভিভাবক বা 'গডফাদার' আমার ছিল না, তাই আমি নিজের বুদ্ধির ওপর ভরসা করেই চলতাম। এখনও তাই করি। আমি জানতামই না যে ব্যক্তিগত মেকআপ আর্টিস্ট, হেয়ার স্টাইলিস্ট বলেও কেউ থাকতে পারে।"
তিনি আরও জানান, অনেক পরে তিনি নিজের যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, "২০১১ বা ২০১২ সালের দিকে আমি প্রথম বুঝতে পারি যে জামাকাপড় গুছিয়ে দেওয়ার জন্য আলাদা করে স্টাইলিস্ট বা ডিজাইনার ভাড়া করা যায়। আর মুস্তাফার সঙ্গে ডেটিং শুরু করার পর আমি নিজের জন্য বিনিয়োগ করতে শিখলাম।যেমন ম্যানিকিওর বা পেডিকিওর করা।"
