কয়েক মাস আগে আচমকাই পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ফেডারেশনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেন। কাজে ফেরেন। এমনকী গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারও করেন। এরপর পালাবদল ঘটে রাজ্যে। এদিন ফেডারেশনের মিটিংয়ে এসে রীতিমত বিস্ফোরক দাবি করলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। জানালেন তিনি সেই সময় আপোস করতে বাধ্য হয়েছেন। 

মিটিং শেষে সাংবাদিকদের পরমব্রত বলেন, "আমাদের রোজগার করতে হয়, সেটার জন্য কোথাও না কোথাও কিছু জায়গায় কম্প্রোমাইজ করতে হয়। আমাকেও করতে হয় একটা স্টেজে এসে। ওই সময়টা আমি আমার সদ্যোজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চিপে জিনিসটা করেছিলাম। আমার আর উপায় ছিল না। কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত রাগ পেশ করতে চাই না। আমি চাই এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়।" 

কিন্তু তিনি কেন প্রচারে গিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে? অভিনেতার জবাব, "বিভিন্ন স্টেজে, বিভিন্ন পর্যায়, বিভিন্ন লোককে দিয়ে এটা করানো হয়েছে। যে কলাকুশলীদের সঙ্গে আমরা এত বছর কাজ করেছি, তাঁদের সঙ্গে বসে কথা বলতে চেয়েছিলাম আমরা কজন। আমাদের কয়েকজনকে বয়কট করা হয়, সেটা পরবর্তীতে আদালত অবধি গড়ায়। তারপর একদম বয়কট করে দেওয়া হয়। বয়কট হওয়ার পর আমার কোম্পানির লোক, পরিবারের লোক অসহায় হয়ে পড়ে, তাঁদের অসহায় অবস্থায় দেখে আমি অসহায় হয়ে পড়ি। সমঝোতা করতে হয়। ২৬ বছর এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার পর এটা তো সুখকর অভিজ্ঞতা হতে পারে না। সেই অসুখকর অভিজ্ঞতার কথা আজ আমি আমার যে কলাকুশলী বন্ধুরা এসেছিলেন তাঁদের সঙ্গে ভাগ করি। অনেকেই জানতেন, যাঁরা জানতেন না তাঁদের সঙ্গে ভাগ করি।" 

তবে কি বিজেপিকে সমর্থন করছেন পরমব্রত? এই বিষয়ে তাঁর সাফ জবাব, "যে দল সরকার গঠন করেছে, সেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমি একমত নই, সেটা আমি বহুবার বলেছি। তার মানে এটা নয় যে বিগত সরকার যা করে গিয়েছে সেগুলো ঠিক। যেমন সিনেমা দিয়েই যদি শুরু করি। সেই অনাচার, অন্যায়ের আমি নিজে সাক্ষী। আমার মতো আরও অনেক মানুষ সাক্ষী। কিন্তু তাই বলে, আমাদের মতো সকলে যে দল সরকার গঠন করল তাদের সমর্থন হয়ে গেলেন তা বলে? এমনকী আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ তারপরও অনেক লোক আরও বেশি করে অন্যায়, অনাচারের সাক্ষী হয়েছে। ফলে দলমত নির্বিশেষে একটা স্বেচ্ছাচারিতা চলত। সেই স্বেচ্ছাচারিতা মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ছাপিয়ে যেত। এখন তাই সিনেমাটা তাঁদের হাতে থাকুক যাঁদের এটা রুটিরুজি। তাঁদের আলাদা আলাদা রাজনৈতিক রং থাকতে পারে, কিন্তু তাঁদের প্রাথমিক পরিচয় যেন হয় সিনেমার কর্মী। এটা খুব জরুরি, নইলে এই জগতে হ্যান্ডেল করা, বোঝা সম্ভব নয়। আবার সেই স্বৈরাচারের জায়গায় ব্যাপারটা যাবে।" তাঁর আরও দাবি, "বিরুদ্ধ মতকে জায়গা দিতে হবে। রাজনৈতিক পরিসর তো বটেই, ফেডারেশন, ইত্যাদির অভ্যন্তরীণ বিষয়েও মতানৈক্য হতে পারে, কিন্তু বিরুদ্ধ মতের জায়গা রাখতে হবে।"