৪ মে ২০০ এর বেশি আসনে জয়ী হয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় সহ কয়েকজন বিজেপি নেতৃত্বকে দায়িত্ব দিয়েছেন টলিউডের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানের। এদিন ফেডারেশনের বৈঠকে ছিল রুদ্রনীল ঘোষের নেতৃত্বে। সেখানেই অংশ নেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, জয়দীপ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। তুলে ধরলেন তাঁদের নানা সমস্যার কথা। 

উপস্থিত সকল কলাকুশলীদের সমস্যার কথা শুনে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, "এতদিন কাউকে ডেথ থ্রেট দেওয়া হয়েছে, কাউকে গুলি করে মেরে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর থেকে ভয়াবহ ঘটনা মনে হয় না ভারতের কোনও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ঘটেছে। মনে হয় সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ যেমন অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছে, তেমনই আজ যাঁরা এখানে এসেছেন, নিজেদের ঘটনা জানাতে চেয়েছেন, সেটার পর আর বুঝতে সময় লাগে না কী চলছিল টলিউডে এবং কোন যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন। যাঁরা যাঁরা জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, দ্রুত। এফআইআর হওয়া উচিত, এবং আইন যা বলে, সেই অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত। নারী পুরুষ নির্বিশেষে দমন পীড়ন করা হয়েছে। যেভাবে টলিউড চলছিল সেটা ভয়ঙ্কর। এই সরকার অরাজকতা, হুমকির ঘোর বিরোধী।" 

অন্যদিকে সমস্যার সমাধানের পথ বাৎলে সৃজিত মুখোপাধ্যায় বলেন, "প্রতিটি গিল্ডের যদি ২০টা করে সমস্যা থাকে, তাহলে এতগুলো গিল্ডের কতগুলো সমস্যা? সব গিকদের লোকজন যদি বসে তাঁদের সমস্যাগুলোকে নিয়ে আলোচনা করে একটা মধ্যস্থতার জায়গায় আসে তাহলে প্রতিটি নিয়মকে আর কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না।" তিনি এদিন বয়কট কালচার প্রসঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মতে, বয়কট না করে ফাইন করার ব্যবস্থা করা হোক। 

বিস্ফোরক দাবি করেন এদিন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "আমাদেও রোজগার করতে হয়, সেটার জন্য কোথাও না কোথাও কিছু জায়গায় কম্প্রোমাইজ করতে হয়। আমাকেও করতে হয় একটা স্টেজে এসে। ওই সময়টা আমি আমার সদ্যোজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চিপে জিনিসটা করেছিলাম। আমার আর উপায় ছিল না। কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত রাগ পেশ করতে চাই না। আমি চাই এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়।"