গতকাল অভিনেতা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের নেতৃত্বে ফেডেরেশানে একটি মিটিং করা হয়৷ সেই মিটিংয়ে উপস্থিত পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, 'সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করেছিলাম'।
পরমব্রতর এই মন্তব্যে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সমাধমাধ্যমে তিনটি প্রশ্ন তুলেছেন৷ আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তরুণজ্যোতির প্রশ্নের উত্তর দিলেন পরমব্রত৷ তরুণজ্যোতি তিওয়ারির তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর প্রথমেই দিয়েছেন পরমব্রত৷
প্রশ্ন: "2021 সালের যখন ওই বিখ্যাত টুইট করেছিল তখন ওর ছেলে হয়েছিল?"
পরমব্রত জানান, "অন্য কেউ এই ধরনের প্রশ্ন করলে উত্তর দিতাম না৷ তরুণজ্যোতি তিওয়ারি জনগণের রায়ে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি, সেই পদকে সম্মান জানিয়ে প্রশ্নগুলির উত্তর দিচ্ছি. আমি ২০২১ সালে ওই টুইট করেছিলাম কারণ ২০২১ সালে নিবার্চনের আগে মাননীয় শ্রী দিলীপ ঘোষ শিল্পীদের প্রসঙ্গে একটি কথা বলেছিলেন৷ শিল্পীদের একটু রগড়ে দিলেই হয়৷ সকলেই জানেন আমি কতটা ভাল রগড়াই৷ এই কথায় একজন শিল্পী হিসাবে আমি অপমানিত বোধ করেছিলাম৷ তাই ২০২১ সালে নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের পরে আমি টুইটটি করেছিলাম৷"
তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দ্বিতীয় প্রশ্ন: "দেউচা কমিটিতে যখন ঢুকেছিল তখন ওর বিয়ে হয়েছিল?"
এই প্রশ্নের উত্তরে পরমব্রত বলেন, "দেউচা পাচামি কমিটিতে হঠাৎ করে অযাচিত ভাবে আমাকে একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল৷ একটি নিরপেক্ষ কমিটির প্রধান ছিলাম আমি৷ এই কমিটির কাজ ছিল দেউচা পাচামিতে গিয়ে কয়লা প্রকল্পের বিষয় রিপোর্ট নেওয়া৷ স্থানীয় মানুষ কতটা ওয়াকিবহাল এই বিষয় এই বিষয় সরকার এবং প্রশাসনকে রিপোর্ট দেওয়া ছিল আমাদের কাজ৷ আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি সঠিকভাবে কাজটি করার৷ ৬ দফায় রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল৷ আমি জানি সেইসময় বহু মানুষের ধারণা হয়েছিল, কয়লাটা আমরাই তুলছি কয়লাটা আমরাই বিক্রি করছি৷ জ্ঞাতার্থে জানাই, দেউচা পাচামিতে অচলাবস্থার কারণে কয়লা উত্তোলন পদ্ধতিটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তখন৷ এমনকি নিরপেক্ষ রিপোর্ট পাঠানোর জন্য সেই সময় স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের রোষানলেও পড়তে হয়েছিল৷ ফোনে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা ধমক দিয়েছিলেন যে কেন সমস্ত ভাল ভাল কথা লেখা হচ্ছে না রিপোর্টে?" প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই কাজে পরমব্রতর সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী পিয়া চক্রবর্তী। তখন তাঁদের বিয়ে হয়নি৷ অভিনেতার দাবি, পরবর্তীকালে পিয়া চক্রবর্তী এই কমিটি থেকে সরে আসেন৷

এই প্রশ্নের জবাব দিতে দিতেই পরমব্রত বলেন, "সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার বিয়ে হয়েছিল কি না বা আমার সন্তানকে নিয়ে প্রশ্ন করা তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা৷ আমি এই বিষয় হস্তক্ষেপ করতে পারি না৷ এই ধরনের প্রশ্ন সমাজমাধ্যমে করলে আমার মনে হয় রুচিবোধ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে৷ কিন্তু ভারতের কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকেই এই মুহূর্তে রুচিবোধের প্রত্যাশা করি না।"
তরুণজ্যোতি তিওয়ারির প্রথম প্রশ্ন: "পরমব্রতর ছেলের বয়স কত?"
পরমব্রত জানান, "আমার ছেলের বয়স ১ বছর৷ গতকাল যে পরিস্থিতি বা যে সময়ের কথা আমি বলেছি সেই সময় আমাকে আমার সন্তানের দিকে তাকিয়ে আপোস করতে হয়েছে৷ ২০২৪-২৫ এর সময় যখন আমার এবং আমার কিছু সহকর্মীর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন তৎকালীন রাজ্য সরকার এবং ফেডারেশনকে পার্টি করে যে মামলা করা হয়েছিল, সেই মামলায় অনেকদিন পর্যন্ত সামনে থেকে লড়াই করার পরেও ২০২৫ এর শেষ দিকে সরে আসতে বাধত হই৷ আমার উপর অনেক মানুষ নির্ভরশীল, যাঁরা সিনেমার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তাঁরা জানেন, আমার চারপাশে গতকাল এমন অনেকে ছিলেন যাঁদের সকলকেই আমার মতো ক্ষমা চাইতে হয়েছিল, বলতে হয়েছিল সকলে একসঙ্গে আছি৷ যএ সময় সামনের সারি থেকে লড়াই করেছিলাম তখন আমার সন্তানের জন্ম হয়েছিল সদ্য৷"
দেউচা পাচামির রিপোর্টে যে সব সমস্যা বা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেছিলেন পরমব্রত, সেই বিষয় কি তৃণমূল সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের থেকে কোনও সহযোগিতা পেয়েছিলেন? আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নে পরমব্রত জানান, "সেরকম ভাবে নয়৷ আমরা রিপোর্ট প্রশাসনকে পাঠাতাম৷ প্রত্যাশা ছিল, শীর্ষনেতৃত্ব অপেক্ষা প্রশাসন এই সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হবেন৷ আমাদের রিপোর্ট অনুযায়ী বাস্তবায়ন করবেন৷ কিছু কিছু হতে শুনেছিলাম৷ তারপর আর শুনতে পাইনি৷ আমাদের কাজ ছিল রিপোর্ট দেওয়া৷ এই অবস্থা আর এই কাজ করা প্রয়োজন এটুকুই আমাদের দায়িত্ব ছিল৷ রিপোর্ট দেওয়ার পর সমস্যা সমাধান কীভাবে হবে সেটা আমাদের এক্তিয়ারে ছিল না৷ দেউচা পাচামি নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা আছে৷ সকলেই ভাবেন এখানে অনেক কিছু করা যাবে কিন্তু এই ভুল ধারণা ভাঙার জন্য দেউচা পাচামিতে যেতে হবে৷ রিপোর্টে সেকথাই জানিয়েছিলাম আগে আভ্যন্তরীণ কোন্দল সামলাতে হবে, মানুষকে সচেতন করতে হবে তবেই এখানে কিছু করা সম্ভব৷ আমাদের রিপোর্ট অনুযায়ী কিছু কাজ করা হয়েছিল শুনেছিলাম, অচলাবস্থার কারণে সমস্ত কাজই দেরি করে হচ্ছিল৷ "
















