গতকাল অভিনেতা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের নেতৃত্বে ফেডেরেশানে একটি মিটিং করা হয়৷ সেই মিটিংয়ে উপস্থিত পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, 'সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করেছিলাম'। এই মন্তব্যে সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে আগে কেন পরমব্রত বিরোধিতা করেননি? আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল পরমব্রতর সঙ্গে।
অভিনেতা শুরুতে নাম না করে বলেন,"ফেডারেশনের দায়িত্বে যিনি ছিলেন তাঁর একটা রাজনৈতিক পরিচয় ছিল। তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্যই জোর খাটাতে পারতেন এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। একজন ফেডেরেশানের সভাপতির রাজনৈতিক রং থাকতে পারে৷ কিন্তু তাঁর কাজ করা উচিত সিনেমার জন্য এবং এই কাজটা অরাজনৈতিক ভাবে করা দরকার, যা তিনি করতেন না বলাই বাহুল্য। আমি সামনের সারি থেকেই এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম৷ লড়াইতে ইতি টানতে বাধ্য হয়েছিলাম সকলেই জানেন। আমি একা নয়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, সৃজিত মুখার্জি, জয়দীপ মুখার্জি, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, এমনকি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সকলকেই সেই সময় কিছু না কিছু ভিডিও করতে হয়েছে৷ আমি সেই সময় ভিডিও করিনি লড়াইটা লড়ছিলাম কিন্তু পরবর্তীকালে পরিস্থিতি এমন জায়গায় যায় যে আমার সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়৷
পরমব্রত বলেন, "আমার এই মতবদল হতই৷ আজ যদি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারও জিতে আসত, তাহলেও তৃণমূল সরকারের কাছে আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ থাকত যে এই বিষয় নিয়ে পদক্ষেপ করুন৷"
স্বরূপ বিশ্বাস প্রসঙ্গে পরমব্রত বলেন, "তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী হওয়া সত্ত্বেও আমার এই আর্জি থাকত যে কেবল আমার প্রতি অবিচারের জন্য নয়, ফেডেরেশানে যেভাবে সমস্ত বিষয়টা চলছে তার একটা সুরাহা প্রয়োজন৷ এখন ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার, তাদের কাছেও আমার একই আবেদন থাকবে৷ "
পরমব্রত বলেন," রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে ফেডেরেশানে বদল হয়তো অনেকটা সহজ হবে কারণ ফেডেরেশানের প্রাক্তন সভাপতি যে রাজনৈতিক দল করতেন সেই দল ক্ষমতায় এলে আর্জি জানাতে পারলেও পদক্ষেপ কতটা দ্রুত হত সেই বিষয় বলা যাচ্ছে না কারণ তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা ছিল৷ এখন যেহেতু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে, আমার প্রত্যাশা যে ফেডেরেশানের ভালর জন্য তাঁরা পদক্ষেপ করবেন৷ টলিউডে কাজ যেন আরও ভাল হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন৷ তাই এখানে মতবদলের বিষয় নেই৷ তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও বলতাম৷ হয়তো সেক্ষেত্রে কিছুদিন পরে বলতাম। অপেক্ষা করছিলাম দাঁতে দাঁত চেপে৷"















