ভারতীয় ক্রিকেটের এক সোনালী অধ্যায়ের নাম মনসুর আলি খান পতৌদি — যাঁকে ক্রিকেট দুনিয়া একডাকে ‘টাইগার পতৌদি’ নামে চেনে। সম্প্রতি ওঁর স্মৃতি রক্ষার্থে ওঁর পুত্র তথা বলিউড অভিনেতা সইফ আলি খান হাজির হয়েছিলেন ওঁর মা শর্মিলা ঠাকুরের শহর কলকাতায়। উপলক্ষ ছিল, তিলোত্তমায় আয়োজিত ‘টাইগার পতৌদি’ সম্পর্কিত এক অনুষ্ঠান। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে এসে বাবা মনসুর আলির ক্রিকেটীয় অবদান তো বটেই, ওঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং ডিনার টেবিলে মা শর্মিলার রেগে যাওয়ার এক চমৎকার ও মজাদার পারিবারিক স্মৃতিচারণ করলেন ছোট নবাব।সইফ জানান, ওঁর বাবা ছিলেন অত্যন্ত কম কথার মানুষ এবং ওঁর আত্মবিশ্বাস ছিল এক অন্য স্তরের। বাড়িতে বা কোনও পারিবারিক আড্ডায় তিনি কখনও নিজের সাফল্য বা অর্জন নিয়ে অহঙ্কার করতেন না।
সেই সময়ের কথা মনে করে সইফ হেসে বলেন- “বাড়িতে বাবা নিজের কোনও কৃতিত্ব নিয়ে মুখ খুলতেন না। আসলে উনি যেকোনও বিষয়েই খুব কম কথা বলতেন। বিভিন্ন ডিনার পার্টি বা জমায়েতে যখন দেখা যেত বাবার চেয়ে অনেক কম জানা কোনও মানুষ কোনও বিষয়ে বড় বড় জ্ঞান বা মতামত দিচ্ছেন, মা (শর্মিলা ঠাকুর) তখন চরম বিরক্ত ও উত্তেজিত হয়ে পড়তেন। মা বাবাকে বলতেন, ‘তুমি কেন কিছু বলছ না?’ আব্বা শান্তভাবে জবাব দিতেন, ‘আমাকে তো কেউ জিজ্ঞেস করেনি!’ ওঁর এই আত্মবিশ্বাসটা সত্যিই একদম অন্য ঘরানার ছিল, যেখানে নিজেকে জাহির করার কোনও তাগিদ থাকত না।”
বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সইফ জানান যে তিনি ওঁর আব্বাকে নিয়ে সারারাত কথা বলতে পারেন, কারণ তিনিই সইফের জীবনের আসল ‘হিরো’। সইফ বলেন,“আমি ওঁকে ‘আব্বা’ বলে ডাকতাম। উনি কথা কম বললেও একজন ফ্যামিলি ম্যান হিসেবে আমাদের যা যা শেখানোর, তার সবকিছুই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। উনি কখনও আমাদের ওপর গলার আওয়াজ তোলেননি। খুব ছোট বয়সেই উনি আমাদের শিখিয়েছিলেন যে মানুষকে কীভাবে সম্মান করতে হয়।”
১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করা মনসুর আলি খান পতৌদি মাত্র ২১ বছর বয়সে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেট দলের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। ১৯৬১ সালে একটি ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় ওঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়ে গেলেও, স্রেফ একটি চোখ নিয়েই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজত্ব করেছিলেন।
বাবার এই লড়াকু মানসিকতা নিয়ে সইফ গর্বের সঙ্গে বলেন, “উনি আত্মবিশ্বাস ব্যাপারটায় প্রবলভাবে বিশ্বাস করতেন। তৎকালীন ভারতীয় ক্রিকেটারদের মনে তিনি এই বিশ্বাসটা বুনে দিয়েছিলেন যে তাঁরাও বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেন। এমন এক সময়ে যখন ভারতীয় দলকে স্রেফ প্রতিযোগিতায় ‘অংশগ্রহণকারী’ হিসেবে দেখা হতো, তখন উনি জেতার জন্য লড়াই করার জেদ তৈরি করেছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেটের এই মানসিকতার পরিবর্তনই ছিল ওঁর অন্যতম সেরা অবদান।” এর পাশাপাশি সইফ যোগ করেন, আজ যদি ওঁর বাবা বেঁচে থাকতেন, তবে এই অতিরিক্ত লাইমলাইট দেখে হয়তো “সামান্য লজ্জিত” হতেন, কিন্তু আলোচনাটা ক্রিকেট এবং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে হচ্ছে দেখে “মনে মনে অত্যন্ত খুশি” হতেন।
সইফ আলি খানকে এই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে শাহরুখ খানের প্রযোজনায় নেটফ্লিক্সের নতুন ক্রাইম-ড্রামা ‘কর্তব্য’-তে। পুলকিত পরিচালিত এই ছবিতে সইফের সাথে রসিকা দুগ্গল, সঞ্জয় মিশ্র এবং জাকির হুসেনের মতো অভিনেতারা রয়েছেন, যা এই মুহূর্তে ওটিটি-তে দারুণ সাড়া ফেলেছে।
এছাড়াও, খুব শীঘ্রই সইফকে দেখা যাবে ওঁর আগামী ধামাকা ছবি ‘হেওয়ান’-এ। বিখ্যাত পরিচালক প্রিয়দর্শন পরিচালিত এই ছবিতে সইফের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করবেন অক্ষয় কুমার এবং সাইয়ামি খের। ছবিটির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ এই মুহূর্তে জোরকদমে চলছে। তবে অভিনয়ের এই ব্যস্ততার মাঝেও কলকাতায় এসে বাবার স্মৃতির উদ্দেশ্যে সইফের এই আবেগঘন বার্তা ছুঁয়ে গিয়েছে ওঁর সমস্ত অনুরাগীদের মন।















