বলি অভিনেত্রী পল্লবী যোশী শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে তাঁর যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে একাধিক জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি মুম্বই সংবাদমাধ্যমের একটি সাক্ষাৎকারে, পল্লবী তাঁর প্রথম ছবির একটি চমকপ্রদ ঘটনা ভাগ করেছেন, যেখানে তিনি প্রকাশ করেছেন যে কীভাবে মাত্র চার বছর বয়সে তাঁকে সেটে পরিচালক চড় মেরে কাঁদিয়েছিলেন।
পল্লবী জানান যে, তাঁর বাবার বন্ধু, চলচ্চিত্র নির্মাতা শান্তিলাল যোশী, ১৯৭৩ সালে 'নাগ মেরে সাথী' ছবিতে অভিনয়ের জন্য তাঁকে বেছে নিয়েছিলেন। এই ছবিতে শচীন এবং সারিকা ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন, যেখানে তিনি সারিকার ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

সাক্ষাৎকারে পল্লবী বলেন যে, একটি গানের দৃশ্যের সময় যেখানে তাঁকে কাঁদতে হবে বলে জানানো হয়েছিল, কিন্তু না কেঁদে সেই সময় তিনি বরং হেসেই চলেছিলেন। অভিনেত্রী বলেন,"ওঁরা আমাকে দৃশ্যটিতে অভিনয় করার জন্য অনেক বোজান। তাঁরা বলেন আমাকে নাগ দেবতার পূজা করতে হবে এবং তারপর মুখ চেপে কাঁদতে হবে। চার বছর বয়সী আমার কাছে এটা খুবই মজার মনে হয়েছিল। তাঁরা বেশ কয়েকবার টেক নিল, কিন্তু আমি হাসতে থাকলাম। শান্তিলাল তখন আমার বাবাকে আমাকে থাপ্পড় মারতে বলল। আমার বাবা রাজি হলেন না কিন্তু ক্যামেরার আড়াল থেকে আমার উপর রাগ করার ভান করলেন। আমি বুঝতে পারলাম তিনি কেবল অভিনয় করছেন - এবং আরও জোরে হেসে উঠলাম। বেশ কয়েকটি ব্যর্থ টেক নেওয়ার পর, শান্তিলাল তাঁর মেজাজ হারিয়ে ফেলেন, আমার কাছে এগিয়ে এসে আমাকে কষিয়ে এক থাপ্পড় মারেন।"
পল্লবী আরও বলেন, “ক্যামেরা ঘুরছিল। আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমার বয়স তখন মাত্র চার বছর। এর আগে কেউ আমাকে কখনও থাপ্পড় মারেনি। আমার মনে খুব আঘাত লেগেছে। খালি ভাবছিলাম পুরো ইউনিটের সামনে আমাকে কীভাবে থাপ্পড় মারতে পারে? আমি তারপর খুব জোরে কেঁদে ফেললাম। শুটিংয়ের পর, আমি উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বললাম, 'আমি এই ছবির শুটিং করতে চাই না!' আমার বাবা হতবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি আমার মেয়েকে কীভাবে থাপ্পড় মারলে?' শান্তিলাল প্যাক-আপের জন্য ডাকলেন। আমি অনড় ছিলাম, আমি আর শুটিং করব না।”
আরও পড়ুন: মালাইকা নন, অনুষ্কার প্রেমে পাগল ছিলেন অর্জুন কাপুর! করণ জোহরের মুখ ফসকে বেরিয়ে এল কোন গোপন কথা?
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন কেটে গেলেও তাঁর বাবা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন কারণ চলচ্চিত্র নির্মাতা তাঁদের সেটে ফেরত ডাকেননি। তবে বাস্তবে, এই ঘটনার পর শান্তিলাল তাঁর শান্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন এবং তিনি শান্ত হওয়ার পর, তাঁরা আবার শুটিং শুরু করেন।
পল্লবী চার বছর বয়সে হিন্দি ছবি "নাগ মেরে সাথী" (১৯৭৩) -এ একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। শিশুশিল্পী হিসেবে তিনি 'আদমি সড়ক কা', 'বদলা' ছবিতে অভিনয় করেন এবং 'দাদা' ছবিতে একজন অন্ধ শিশুর চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা অর্জন করেন। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে, তিনি 'রুক্মাবতী কি হাভেলি', 'ত্রিশগনি', 'রিহাই'- এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন এবং 'সওদাগর', 'পানাহ', 'মুজরিম' এবং 'তেহেলকা'র মতো বাণিজ্যিক ছবিতেও অভিনয় করেন।
তিনি 'ওহ ছোকরি' (১৯৯২) ছবিতে অভিনয়ের জন্য তাঁর প্রথম জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলেন। ফিচার ফিল্ম বিভাগে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছিলেন। 'দ্য মেকিং অফ দ্য মহাত্মা' ছবিতে কস্তুরবা গান্ধীর চরিত্রে অভিনয় করার পর, পল্লবী সিনেমা থেকে বিরতি নিয়েছিলেন এবং ২০০৯ সালে রেণুকা শাহানের 'রীতা' ছবির মাধ্যমে ফিরে আসেন।
তাঁকে আগামীতে দেখা গিয়েছিল 'তানভি দ্য গ্রেট ছবিতে'। যেখানে অভিনয় করেছিলেন অনুপম খের , শুভাঙ্গী দত্ত, ইয়েন গ্লেন, বোমান ইরানি এবং জ্যাকি শ্রফ।
















