বলিউডের কালজয়ী ট্র্যাজিক প্রেমের মহাকাব্য ‘দেবদাস’ -কে ‘ওভাররেটেড’ এবং ‘মদ খাওয়ার উদযাপন’ বলে সম্প্রতি তীব্র সমালোচনার মুখে পাকিস্তানি অভিনেত্রী দানানীর মুবীন। ওঁর সেই সাক্ষাৎকারের বিতর্কিত ভিডিও ক্লিপটি ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে ভাইরাল হতেই এবার ওঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিল সিনেপ্রেমী ও নেটিজেনরা। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূল উপন্যাস এবং সঞ্জয় লীলা বনশালির ২০০২ সালের এই মাস্টারপিসকে এভাবে খাটো করায় দানানীরকে ‘অশিক্ষিত’ এবং ‘নীতিপুলিশ’ বলে কটাক্ষ করছে নেটপাড়া।এরই মধ্যে নেটিজেনরা দানানীকের একটি পুরনো কীর্তিও টেনে এনেছেন, যা ওঁর এই মন্তব্যকে চরম ‘ভণ্ডামি’ হিসেবে প্রমাণ করছে।
Someone should remind Dananeer, Devdas does not glorify alcoholism. His downfall is driven by ego and addiction, and he dies broken. Paro’s choice to marry another man is an act of self-respect, not weakness. The only thing overrated here is her fake accent, not Devdas pic.twitter.com/rRVKc6OKiw
— r (@bekhayalime)Tweet by @bekhayalime
দানানীর প্রশ্ন তুলেছিলেন, একটি মাতাল চরিত্র, একজন আত্মসম্মানহীন নারী (পারো) এবং জোর করে চাপিয়ে দেওয়া অন্য এক নারীর (চন্দ্রমুখী) গল্প কেন ‘ক্ল্যাসিক’ হবে? ওঁর এই ‘বোকো বোকা’ যুক্তির জবাবে এক ‘এক্স’ ব্যবহারকারী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন -“এই মেয়েটা জাস্ট অসহ্য! আমি পুরো ভিডিওটা দেখার ধৈর্য রাখতে পারিনি। কেউ দয়া করে ওকে একটু ডেকে বসিয়ে সাহিত্যের আঙিনায় ‘ট্র্যাজেডি’ শব্দের আসল অর্থটা বুঝিয়ে দিন। আর তার চেয়েও ভালো হয়, ওঁর সামনে থেকে মাইকটা কেড়ে নিলে আমাদের কান দুটো অন্তত বাঁচবে।”
অন্য এক নেটিজেন শিক্ষার গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, “একেবারে মূর্খের মতো একটা মন্তব্য। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখকের অন্যতম সেরা ক্লাসিক সৃষ্টিকে ও এভাবে অপমান করছে! সেই জন্যই জীবনে শিক্ষার এত প্রয়োজন রয়েছে। আজকাল যেকোনও মানুষ হাতে মাইক পেলেই আজেবাজে বকতে শুরু করে, এটা বন্ধ হওয়া দরকার।”
এক নেটপাড়ার বাসিন্দা তো বিশ্ব চলচ্চিত্রের উদাহরণ টেনে লিখেছেন, “দেবদাস ছবিটা মানুষের মানসিক পরিস্থিতি এবং তাঁদের জীবনের ট্র্যাজেডি নিয়ে তৈরি। এই যুক্তি ধরলে ‘দ্য গডফাদার’ কেন ক্লাসিক? সেখানেও তো অপরাধ জগতকে দেখানো হয়েছে।” অন্য এক ব্যবহারকারী মনে করিয়ে দেন, “সিনেমা মানেই ভাল মানুষের গল্প নয়, সব রকমের চরিত্র দেখানোই সিনেমার কাজ। আর এখানে মদ্যপানকে মহিমান্বিত করা হয়নি; শেষে দেবদাসের বেদনাদায়ক মৃত্যু এবং পারোর এক যন্ত্রণাদায়ক বিয়ে— ওটা যে এক চরম ধ্বংসের গল্প, সেটাই দেখানো হয়েছিল।”
দানানীর যখন দেবদাসের চরিত্রায়ণ নিয়ে নীতিশিক্ষা দিচ্ছেন, তখনই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা ওঁর একটি পুরনো শো-এর ভিডিও এবং ছবি খুঁজে বের করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, দানানীর নিজেই এই ছবির মূল চরিত্র ‘পারো’ (ঐশ্বর্য রাইয়ের লুক)-র মতো নীল শাড়ি এবং জমকালো গয়না পরে সেজেছিলেন!
নেটিজেনদের একাংশ এই ছবি শেয়ার করে বলছেন, যে ছবির গল্প ও চরিত্রকে দানানীর ‘আত্মসম্মানহীন’ বলছেন, লাইমলাইটে আসার জন্য নিজেই সেই পারো সেজে বসেছিলেন! ওঁর এই দ্বিচারিতাকে ‘হেব্বি মজা’ ও ‘ভণ্ডামি’ বলে উল্লেখ করছেন বলিউড ভক্তরা।
কাকতালীয়ভাবে, দিনকয়েক আগেই দানানীর মুবীনের নতুন পাকিস্তানি ছবি ‘মেরা লিয়ারি’ বক্স অফিসে মুক্তি পেয়ে চরম মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাণিজ্য বিশ্লেষক ও নেটিজেনদের বড় অংশের মতে, নিজের ফ্লপ ছবির ব্যর্থতা এবং বক্স অফিসের খরা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই সস্তা পাবলিসিটি স্টান্টের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। শাহরুখ খান, ঐশ্বর্য রাই এবং মাধুরী দীক্ষিতের ‘দেবদাস’ যে আজও বিশ্বজুড়ে কতটা জনপ্রিয়, দানানীকের বিরুদ্ধে হওয়া এই গণ-প্রতিরোধই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।















