অস্কারের মঞ্চে আলো ঝলমলে সম্মাননা, আবেগঘন মুহূর্ত সবই ছিল। তবুও বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস -এর। এবার সমালোচনার কেন্দ্রে ‘ইন মেমোরিয়াম’ পর্ব—যেখানে প্রয়াত শিল্পীদের স্মরণ করা হয়। আর সেই তালিকা থেকেই বাদ পড়া কিছু নাম ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে ধর্মেন্দ্র-র নাম। কিংবদন্তি এই অভিনেতার নাম দেখা গেল না অস্কারের ‘ইন মেমোরিয়াম’ অংশে।হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম এই আইকনকে বাদ পড়তে দেখে অনেকেই বিস্মিত। বিশেষ করে যখন এর আগেও অস্কারের মঞ্চে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করা হয়েছে।পাশাপাশি অনুপস্থিত ছিলেন হলিউডের অভিনেতা এরিক ডেন-ও। অস্কারের  সম্প্রচার চলাকালীনই দর্শকদের একাংশ লক্ষ্য করেন, একাধিক প্রভাবশালী শিল্পীর নামই জায়গা পায়নি ওই আবেগঘন পর্বে। আর তারপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় প্রশ্নের ঝড়—এ কি বড়সড় গাফিলতি?

এই বিতর্কের মাঝেই মুখ খুলেছেন অস্কার সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী কর্মকর্তা রব মিল্স। তাঁর সাফাই, “ইন মেমোরিয়াম সেগমেন্ট তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। প্রতি বছরই বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে হারায় ইন্ডাস্ট্রি। সবার নাম একসঙ্গে জায়গা দেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না।”

তিনি আরও জানান, কোন নাম টেলিকাস্টে থাকবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় অ্যাকাডেমি  অফ মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সাইন্সেস-ই। সময়ের সীমাবদ্ধতা ও তালিকার দৈর্ঘ্য—এই দুইয়ের ভারসাম্য রাখতে গিয়ে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তবে এখানেই শেষ নয়। মিলসের দাবি, টেলিভিশন সম্প্রচারে না থাকলেও, অনেক নামই স্থান পায় অ্যাকাডেমির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিস্তৃত তালিকায়। সেই তালিকাতেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ধর্মেন্দ্রকে, যদিও লাইভ অনুষ্ঠানে তাঁর নাম শোনা যায়নি।

এদিকে, এই বাদ পড়া নিয়ে সরব হয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির অন্দরেও অনেকে। ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী তথা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী হেমা মালিনী স্পষ্ট ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, “এটা লজ্জাজনক।” তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে পরিচিত এবং দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য ধর্মেন্দ্র এই সম্মানের পুরোপুরি দাবিদার ছিলেন।

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে সম্মান জানানো হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক কিংবদন্তিকে। যেমন রবার্ট রেডফোর্ড এবং ডিয়েন কিটন। তাঁদের জন্য ছিল বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্যও। কিন্তু ঠিক সেখানেই উঠছে আরেকটি প্রশ্ন, এই বাছাই প্রক্রিয়ায় কি আন্তর্জাতিক শিল্পীদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করা হচ্ছে? প্রযোজকদের যুক্তি স্পষ্ট। সময় কম, তালিকা দীর্ঘ। কিন্তু দর্শকের কাছে ‘ইন মেমোরিয়াম’ শুধুই একটি সেগমেন্ট নয়, বরং আবেগের জায়গা। প্রিয় শিল্পীদের শেষবারের মতো সম্মান জানানোর এই মুহূর্তে কোনও নাম বাদ পড়লে, তা স্বাভাবিকভাবেই কষ্টের।

সব মিলিয়ে, অস্কারের এই বিতর্ক নতুন নয়। তবুও প্রতি বছরই তা নতুন করে সামনে আসে। আর প্রশ্নটা একই থেকে যায়, স্মরণ করার মঞ্চে কি সত্যিই সবাই সমান জায়গা পান? না কি সেখানেও থেকে যায় অদেখা কিছু ফাঁক?