নীতু কাপুর মাত্র আট বছর বয়সে শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেছিলেন। মাত্র ২১ বছর বয়সেই তিনি সেই সময়ের জনপ্রিয় সব নায়কদের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। শশী কাপুর, অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে জিতেন্দ্র এবং শত্রুঘ্ন সিনহা—সবার সঙ্গেই হিট সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।
ঋষি কাপুরের সঙ্গে তিনি মোট ১১টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তবে পরিবারের জন্য তিনি সবকিছু ছেড়ে দিতেও দ্বিধা করেননি। ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে মুম্বইয়ের চেম্বুরে আরকে স্টুডিওতে ঋষি কাপুর ও নীতু কাপুরের বিয়ে হয়। একবার এক সাক্ষাৎকারে রণবীরের মা বলেছিলেন, “কেরিয়ার ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা আমার নিজের ছিল। আমি একটা সুন্দর পরিবার চেয়েছিলাম। কাজ করতে করতে আমি সত্যিই খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। মাত্র সাত বছরের কেরিয়ারে আমি প্রায় ৭০টি ছবি করেছি, প্রতিদিন তিন শিফটে কাজ করতাম। বিয়ের সময় আমি একদমই ঘাবড়ে যাইনি কারণ ঋষির পরিবারের সবাইকে আমি আগে থেকেই খুব ভালভাবে চিনতাম।”
২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল টানা দু’বছর লিউকেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করে কিংবদন্তি অভিনেতা ঋষি কাপুর মারা যান। অনুরাগী ও প্রিয়জনদের পাশাপাশি তাঁর পরিবারও ভেঙে পড়েছিল, তবে নীতু কাপুরের জন্য সময়টা ছিল অনেক বেশি কঠিন।
স্বামীকে হারানোর পর নীতু কাপুরকে অনেক সামাজিক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে নীতু জানান, সেই সময় কাছের মানুষেরা তাঁকে থেরাপিস্টের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর মন সায় দেয়নি। তিনি বলেন, “আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম। আমি থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলছিলাম আর নিজেকেই প্রশ্ন করছিলাম, ‘আমি এসব কী করছি?’ মানুষ যতক্ষণ না নিজে নিজেকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, ততক্ষণ কেউ তাকে সাহায্য করতে পারে না।”
ঋষি কাপুরের মৃত্যুর পর এক সময় মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন নীতু। তিনি জানান, “ঋষি মারা যাওয়ার পর প্রায় ২-৩ মাস আমি একদম ঘুমাতে পারতাম না। তখন আমি মদ্যপান করা শুরু করি। মদ্যপান ছাড়া আমার আর ঘুম আসত না।” স্বাস্থ্য সচেতন নীতু নিজের এই অবস্থা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, “আমি নিজের এই রূপটা পছন্দ করছিলাম না। শুধু মাথাটাকে অবশ করে ঘুমানোর জন্যই আমি ওটা করতাম। শেষে আমি ডাক্তারকে ফোন করে বলি, আমার সঙ্গে এসব হচ্ছে, আমার সাহায্য চাই। আমি এমন মানুষ নই।”
এরপর একজন ডাক্তার প্রতিদিন তাঁর বাড়িতে আসতেন এবং তাঁকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন। নীতু বলেন, “এটা ১০ দিন চলেছিল। ১১-১২ দিনের মাথায় আমি ডাক্তারকে বলি, আমি এখন ঠিক আছি। আমার মনে হয় না এখন আর এগুলোর দরকার আছে। আমি এখন সামলে নিতে পারব।”
পুরানো স্মৃতি হাতড়ে তিনি আরও জানান যে, একা ঘরে গেলেই তাঁর ঘুম আসত না। তখন করণ জোহর তাঁকে সিনেমায় ফেরার পরামর্শ দেন। নীতু কাপুর বলেন, “যখন আমি ‘যুগ যুগ জিও’ ছবিটা করি, তখন আমি ভীষণ নার্ভাস ছিলাম। প্রতিটি শটের আগে আমি ভয়ে কাঁপতাম। আমি জীবনে ৭০-৮০টা ছবি করেছি, কিন্তু তখন নিজের মধ্যে কোনও জোর পাচ্ছিলাম না। তবে শেষ পর্যন্ত আমি কাজটা করি এবং সেটা আমাকে সুস্থ হতে সাহায্য করে।” শেষে তিনি জানান, “আজ আমার কাজের কোনও প্রয়োজন নেই।” এখন তিনি কেবল নিজের আনন্দের জন্যই অভিনয় করেন। প্রসঙ্গত, সদ্য মুক্তি পেয়েছে তাঁর কমেডি ছবি 'দাদি কী শাদি'। এই ছবিতে নীতুর মেয়ে ঋদ্ধিমা কাপুর সাহানির বড়পর্দায় অভিষেক হয়েছে।
















