মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মালয়ালম চলচ্চিত্রের দাপুটে পরিচালক রঞ্জিতকে নিজেদের হেফাজতে নিল কেরালা পুলিশ। এক তরুণী অভিনেত্রীর করা শ্লীলতাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত এই পদক্ষেপ নিয়েছেন গোয়েন্দারা। হেমা কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রঞ্জিতের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হেনস্থার অভিযোগ জমা পড়ছিল, তবে এবারের গ্রেফতারি বিষয়টি এক নতুন মোড় দিল।

 


পুলিশ সূত্রে খবর, গত সোমবার কোচি সিটি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একটি ছবির শ্যুটিং চলাকালীন রঞ্জিত তাঁকে ভুল বুঝিয়ে একটি 'ক্যারাভানে' ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানে তাঁকে যৌন হেনস্থার চেষ্টা করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই ইদুক্কি জেলা থেকে রঞ্জিতকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তাঁকে থোডুপুঝায় রাখা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোচিতে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।


গ্রেফতারির পর গতকাল গভীর রাতে হঠাৎই রঞ্জিত শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান। তড়িঘড়ি তাঁকে এরনাকুলামের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার পর আজ তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার কথা রয়েছে। এই পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করছে পুলিশ প্রশাসন।


রঞ্জিতের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগে একজন পুরুষ এবং একজন নারী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন, যদিও আদালত সেই মামলাগুলি খারিজ করে দেয়। এছাড়া, ২০২৪ সালে একজন বাঙালি অভিনেত্রীও ২০০৯ সালের 'পালেরি মাণিক্যম' ছবির শ্যুটিংয়ের সময় রঞ্জিতের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন। বিচারপতি কে হেমা কমিটির রিপোর্টেও বারবার রঞ্জিতের নাম উঠে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কীভাবে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যান।

কেরালা হাইকোর্ট এবং পুলিশের এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পার পাওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। রঞ্জিতের এই গ্রেফতারি কি মালয়ালম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিকটি পুরোপুরি পরিষ্কার করবে? উত্তর মিলবে আইনি লড়াইয়ের পর।

ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে রঞ্জিতের এই গ্রেপ্তারি-ই কি যথেষ্ট?