বলিউডের রূপোলি পর্দায় তখন একাধিপত্য ছিল মালা সিনহা এবং শর্মিলা ঠাকুরের। কিন্তু ক্যামেরার পিছনের গল্পটা সব সময় মধুর ছিল না। সম্প্রতি আবারও ফিরে এল ১৯৬৮ সালের সেই বিতর্কিত অধ্যায়, যখন ‘হামসায়া’ ছবির সেটে মালা সিনহা প্রকাশ্যেই শর্মিলাকে চড় মেরেছিলেন বলে গুজব রটেছিল।

ঘটনাটা ঘটেছিল জয় মুখার্জি পরিচালিত ‘হামসায়া’ ছবির শুটিং চলাকালীন। সেই সময়ে মালা সিনহা এবং শর্মিলা ঠাকুর দু'জনেই ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ইন্ডাস্ট্রিতে কানাঘুষো শোনা যেত যে, ছবির স্ক্রিন টাইম, সংলাপ এবং কে আগে সেটে আসবেন, তা নিয়ে দুই নায়িকার মধ্যে এক ঠান্ডা লড়াই চলছিল। ইগোর এই লড়াই চরমে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিংয়ের সময়। জানা যায়, তর্কের এক পর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে মালা সিনহা নাকি শর্মিলা ঠাকুরের গালে চড় কষিয়ে দিয়েছিলেন। সেটের কয়েকজন কর্মী এই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন বলে দাবি করা হলেও, বিষয়টি নিয়ে সেই সময়ে বা পরবর্তীতে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

কৌতূহলের বিষয় হল, বছর কয়েক পর যখন এই প্রসঙ্গটি আবার ওঠে, তখন দুই অভিনেত্রীই একে নিছক ‘রটনা’ বলে উড়িয়ে দেন। মালা সিনহা এই বিতর্ককে ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ বা প্রচার পাওয়ার সস্তা কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। শর্মিলা ঠাকুরও এই ঘটনাকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তবে বলিউডের অন্দরে আজও এই ‘চড় কাণ্ড’ চর্চায় থাকে। 

শুধু মালা সিনহাই নন, শোনা যায় ‘দাগ’ ছবির সেটে রাখী গুলজারের সঙ্গেও শর্মিলার সম্পর্ক খুব একটা মধুর ছিল না। পরিচালক যশ চোপড়াকে একাধিকবার তাঁদের বিবাদ মেটাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। এমনকী রাজেশ খান্নাও অজান্তে দুই নায়িকার ভুল বোঝাবুঝি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। 

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ এক দশক পর তিনি ‘পুরাতন’ ছবির মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় ফিরেছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। সুমন ঘোষের পরিচালনায় এই ছবিতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তকেও দর্শক দেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে।