বলিউডের ‘ধকধক গার্ল’ মাধুরী দীক্ষিতকে তারকা বানানোর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল নৃত্যপরিচালক সরোজ খানের। ১৯৮৮ সালের ‘তেজাব’ সিনেমার বিখ্যাত গান 'এক দো তিন চার' থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের ‘কলঙ্ক’ সিনেমার 'তাবাহ হো গায়ে' যখনই এই দুই তারকা একসঙ্গে কাজ করেছেন, পর্দায় ইতিহাস তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি এই জুটিকে নিয়ে একটি অবাক করা তথ্য ফাঁস করেছেন সরোজ খানের সহকারী রুবিনা খান। ২০০২ সালের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘দেবদাস’-এর আইকনিক গান 'ডোলা রে ডোলা'-র শুটিংয়ের ২৪ বছর পর পর্দার পিছনের এক কঠিন লড়াইয়ের গল্প শুনিয়েছেন তিনি। সঞ্জয় লীলা বনশালির এই সিনেমায় মাধুরীর সঙ্গে ছিলেন ঐশ্বর্য রাই ও শাহরুখ খান।

একটি সাক্ষাৎকারে রুবিনা বলেন, “ওই গানটির শুটিং করতে ১৭ দিন সময় লেগেছিল। আর মহড়া চলেছিল অন্তত এক মাস ধরে। আমরা ক্রু মেম্বাররা আলাদাভাবে মহড়া করতাম, আর মূল অভিনেতারা আলাদাভাবে প্র্যাকটিস করতেন।”

মাধুরীর শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে রুবিনা বলেন, “গানে একটা স্টেপ ছিল যেখানে মাধুরীম্যামকে ঘুরে এসে নিচে বসতে হতো। সেই একটি শটের শুটিং সকাল নটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত চলেছিল, কারণ ম্যাম তখন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ফলে ওঁর ঘুরতে অসুবিধা হচ্ছিল এবং মাথা ঘুরছিল। ওই সময় ওঁর গায়ে জ্বরও ছিল। তিনি ভীষণ কষ্ট করেছিলেন।”

কষ্ট হলেও নিজের নাচের গুরুর প্রতি মাধুরীর শ্রদ্ধা ছিল দেখার মতো। রুবিনা জানান, “তিনি কখনওই কোনও স্টেপ বদলে দেওয়ার অনুরোধ করতেন না। মাস্টারজি (সরোজ খান) যা বলে দিতেন, সেটাই ছিল ওঁর কাছে শেষ কথা।আজকালকার নতুন শিল্পীরা তাও মাস্টারজিকে বলেন যে স্টেপটি কঠিন লাগছে এবং তা বদলে দেওয়া যায় কি না। কিন্তু মাধুরী ম্যাম যেকোনও উপায়ে সেই নির্দিষ্ট স্টেপটিই ফুটিয়ে তোলার জন্য জেদ ধরে থাকতেন।”

এর আগে, ১৯৯৯ সালে আমেরিকার ডাক্তার শ্রীরাম নেনেকে বিয়ে করেন মাধুরী দীক্ষিত। কেরিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায় বলিউড ছেড়ে তিনি পাকাপাকিভাবে ডেনভারে চলে গিয়েছিলেন। যদিও পরে আবার অভিনয়ে ফেরেন তিনি। তবে ‘দেবদাস’ ছবির এই গানটি আজও হিন্দি ছবির ইতিহাসের অন্যতম সেরা যুগলবন্দি হিসেবে রয়ে গিয়েছে।