সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী বিতর্কে এবার রাজনীতির ছোঁয়া। এক যুবতীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার শমীক। পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে সেই যুবতী জানান, তাঁকে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে যৌন হেনস্থা এবং মারধর করেন শমীক। তারপরেই দমদম থেকে পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি। এই বিতর্কের কিছুদিন আগেই ‘বাটন’ বলে একটি ভিডিও করে সকলের কাছে নায়ক হয়ে ওঠেন শমীক। অনেকেই মনে করেছিলেন, সরাসরি না হলেও তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলেই ওই ভিডিও করেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করে, এর নেপথ্যে ইন্ধন ছিল বিরোধী দল বিজেপি-র। শমীক গ্রেপ্তার হতেই এবার বিজেপি-র আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যের দিকে আঙুল তুললেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

কুণালের মতে, শমীকের অপরাধ লুকোতে চাইছেন অমিত। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ধর্ষকদের নিয়োগকারী হিসাবে পরিচিত অমিত মালব্য এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট ক্রিয়েটরের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারিণী মিথ্যা বলছেন, কারণ এত বড় একটি ঘটনা ঘটলে কেউ না কেউ তা জানত। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার পর এতদিন আগে কেন ওই তরুণী মুখ খোলেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, ২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘটনাটি ঘটে। ওই তরুণীকে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। পরে তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং ৪ ফেব্রুয়ারি এফআইআর নথিভুক্ত হয়।’

 ওই তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে বন্দি করে রাখেন শমীক। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সেখানে আটক ছিলেন। আইনজীবী অভিষেক দে বিশ্বাস জানান, শমীক তাঁর পরিচিত বন্ধু। বাড়ি বদলের সময় সাহায্যের অজুহাতে তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠান শমীক। এরপরই তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং সারারাত ধরে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হতেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান শমীক। তাঁর মা-বাবারও খোঁজ মেলে না।

বৃহস্পতিবার দমদম থেকে শমীককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একটি ভিডিওর সুবাদে কয়েকদিন আগেই যিনি সকলের ‘নায়ক’ হয়ে উঠেছিলেন, তাঁকেই চাদরে মুখ ঢেকে ধরে নিয়ে আসা হয় থানায়। এখনও পর্যন্ত শমীকের তরফ থেকে এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।