ফের একবার গুরুতর আইনি জটিলতায় জড়ালেন জনপ্রিয় মালায়লাম অভিনেতা বিনায়কন। রজনীকান্ত অভিনীত ব্লকবাস্টার ছবি ‘জেলার’-এর কুখ্যাত খলনায়ক ‘বর্মন’ চরিত্র দিয়ে দেশজোড়া খ্যাতি পাওয়া এই অভিনেতার বিরুদ্ধে এবার এক নাবালিকা এবং তার বাবার ব্যক্তিগত তথ্য সমাজমাধ্যমে ফাঁস করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। কেরলের আলাপ্পুঝা জেলার মাভেলিক্কারা পুলিশ অভিনেতার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

কেরল রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন-এর সরাসরি নির্দেশে অভিনেতার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

খবর, কেরলের থাঝাকারার বাসিন্দা এক ব্যক্তি কিছুদিন আগে অভিনেতা বিনায়কন সম্পর্কিত একটি ফেসবুক পোস্ট কয়েকজন পরিচিত মানুষকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন। অভিযোগ, বিষয়টি জানতে পেরে অভিনেতা ক্ষুব্ধ হন এবং ওই ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলের একটি স্ক্রিনশট নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে আপলোড করে দেন।

বিপত্তি ঘটে সেখানেই। ওই ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ ডিপি বা প্রোফাইল পিকচারে তাঁর ৮ বছর বয়সী কন্যাসন্তানের ছবি ছিল। বিনায়কন সেই ছবিতে কোনও ব্লার বা সেন্সর না করেই তা ফেসবুকে পোস্ট করায় নাবালিকার ছবি প্রকাশ্যে চলে আসে। শুধু তাই নয়, স্ক্রিনশটে ওই ব্যক্তির মোবাইল নম্বরটিও দৃশ্যমান ছিল এবং পোস্টের ক্যাপশনে অভিনেতা আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ।

নাবালিকার বাবার দাবি, অভিনেতার পেজ থেকে তাঁর নম্বরটি ভাইরাল হতেই অচেনা নম্বর থেকে দলে দলে উড়ো ফোন আসতে শুরু করে। অনেকেই ফোন করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মানসিক হেনস্থা করতে থাকে। নিরুপায় হয়ে ওই ব্যক্তি আলাপ্পুঝায় রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হন। কমিশন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবিলম্বে অভিনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেয় মাভেলিক্কারা পুলিশকে।অভিযুক্ত মালায়লাম অভিনেতার বিরুদ্ধে নারীত্বের অবমাননা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি গত বছরের জুলাই মাসের হলেও, আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতির পর এখন তা বড় রূপ ধারণ করেছে।

আইনি ঝামেলা বা পুলিশের খাতায় নাম লেখানো বিনায়কনের জন্য একেবারেই নতুন কিছু নয়। গত কয়েক বছরে বারবার মদ্যপ অবস্থায় তাণ্ডব চালিয়ে শিরোনামে এসেছেন তিনি। 

মে, ২০২৫ (হোটেল ভাঙচুর ও তাণ্ডব): কেরলের কোল্লামের একটি হোটেলে সিনেমার শুটিংয়ের জন্য থাকাকালীন মদ্যপ অবস্থায় চরম অশান্তি করার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ কর্মীদের সামনেও তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পরবর্তীতে ‘পাবলিক ইনটক্সিকেশন’ বা মদ্যপ অবস্থায় অভব্যতার দায়ে কেরালার পুলিশ আইনে মামলা রুজু করে তাঁকে জামিনে ছাড়া হয়।

নভেম্বর, ২০২৪ (গোয়ার রাস্তায় বচসা): গোয়ার রাস্তায় এক দোকানদারের সঙ্গে প্রকাশ্য রাস্তায় বিনায়কনের চরম কথা কাটাকাটির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে তাঁকে অদ্ভুতভাবে কাঁপতে দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে নেটপাড়ায় মদ্যপ থাকার জল্পনা তৈরি হয়েছিল।

অক্টোবর, ২০২৩ (থানায় অভব্য আচরণ): কোচির এর্নাকুলাম থানায় মদ্যপ অবস্থায় গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে অভদ্র আচরণ ও গালিগালাজ করার অপরাধে পুলিশ তাঁকে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রেখেছিল।

এত বিতর্ক সত্ত্বেও অভিনেতার পেশাদার কেরিয়ার কিন্তু বেশ উজ্জ্বল। খুব শীঘ্রই তারকা রজনীকান্তের মেগা-প্রোজেক্ট ‘জেলার ২’-তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় পর্দায় ফিরতে চলেছেন বিনায়কন। তবে নতুন এই আইনি জটলা তাঁর শুটিং শিডিউলে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার।