আর ডি বর্মণ থেকে শুরু করে আশা ভোঁসলের সঙ্গে মঞ্চে সব সময়ের সঙ্গী ছিলেন ট্রাম্পেট বাদক কিশোর সোদা‌। তাঁকে 'ট্রাম্পেট কিং' তকমাও দেওয়া হয়েছিল। আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবরে মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছেন কিশোর সোদা‌। আজকাল ডট ইন-কে তিনি বলেন, "কী আর বলব? জানতামই না যে হাসপাতালে ভর্তি। তাই শেষ দেখাটাও হয়নি। শুনেছি হার্ট অ্যাটাকেই চলে গেলেন। বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। তিন-চার বছর আগে শেষবার একটা শো-এ দেখা হয়েছিল। এখন তো আর তেমনভাবে ওনার অনুষ্ঠানে থাকি না। আগে তো সব অনুষ্ঠানেই থাকতাম। একদম ভাবতে পারছি না..।' কথা বলতে বলতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন তিনি।

এক সময় যখন স্টেজে দাপট চলত আশা ভোঁসলের তখন সব সময়ের সঙ্গী ছিলেন কিশোর সোদা। আশার সুরে তাঁর ট্রাম্পেটের যুগলবন্দী তৈরি করত 'ম্যাজিকাল মোমেন্ট'। 

মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। জানা গিয়েছিল বর্ষীয়ান গায়িকার শারিরীক অবস্থার অবনতি হতেই তাঁকে তড়িঘড়ি আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানে অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাঁর চিকিৎসা করছিলেন। 

কিন্তু চেষ্টা বিফলে। না ফেরার দেশে আশা ভোঁসলে। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক ড. প্রতীত সামদানি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা বিনোদন জগতে। সোমবার বিকেল চারটেয় শিবাজী পার্কে আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে খবর।

প্রসঙ্গত, গজল থেকে শুরু করে ক্যাবারে সবক্ষেত্রেই তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন। সঙ্গীত পরিচালক ও. পি. নায়ারের সঙ্গে আশার জুটি উপহার দিয়েছিল ‘আও হুজুর তুমকো’র মতো গানহ আবার আর. ডি. বর্মণের সুরে তাঁর কালজয়ী গান ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো’ আজও রোমান্টিকতার এক অদ্বিতীয় মানদণ্ড হয়ে আছে।

‘পিয়া তু আব তো আজা’ কিংবা ‘ইয়ে মেরা দিল’-এর মতো গানগুলো সঙ্গীতের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল। তবে কেবল গ্ল্যামার নয়, ‘ইন আঁখো কি মাস্তি’ এবং ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’-এর মতো গানে তাঁর ধ্রুপদী সুরের গভীরতা ও দক্ষতা প্রমাণ করে যে, কেন তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে একচেটিয়া রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর কালজয়ী কণ্ঠেই অমর হয়ে থাকবেন আশা ভোঁসলে।