সুরলোকে পাড়ি দিলেন সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। পঞ্চম দা অর্থাৎ আরডি বর্মনের মৃত্যুর পর পুজোর গান গাইতে চাইতেন না। পরবর্তীতে সেই অসাধ্যসাধন করেন শিলাদিত্য চৌধুরী। আশা ভোঁসলের প্রয়াণে কী বললেন তিনি আজকাল ডট ইনকে।
এদিন শিলাদিত্য চৌধুরী আশা ভোঁসলের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার স্মৃতি হাতড়ে বলেন, "আশাজি পুজোর গান কারও জন্য গাইতে চাইতেন না। উনি পুজোর গান কেবল আরডি বর্মন, সলিল চৌধুরীর জন্যই গেয়েছেন। পুজোর গানের প্রতি ওঁর একটা সাংঘাতিক রিজার্ভেশন ছিল। বিশেষ করে পঞ্চম দা মারা যাওয়ার পর উনি কোনওদিন পুজোর গান গাননি। অনেক বছর ধরে চেষ্টা করছিলাম। আশা অডিওর মহুয়া দি, মহুয়া লাহিড়ির জন্যই পরবর্তীতে কাজটা সম্ভব হয়।" তাঁর আরও সংযোজন, "সাতদিন বম্বেতে ছিলাম। আশা জির বাড়ি গিয়ে রোজ গান শুনিয়েছিলাম, বসা হয়েছিল। অবশেষে উনি গান গাইতে রাজি হন। আমার এখনও মনে আছে, যেদিন প্রথম ওঁর বাড়ি গিয়েছিলাম প্রথম পাঁচ মিনিট কথা বলতে পারিনি। মনে হয়েছিল আমার সামনে মা সরস্বতী দাঁড়িয়ে আছে। উনি লজ্জায় পড়ে গিয়েছিলেন। সাত বছর আগে যখন উনি গানটি গান তখন ওঁর বয়স ৮৫। তখন বয়সজনিত কারণেই সুর সঠিক লাগত না অনেক সময়। একটু এদিক ওদিক হতো। উনি বারবার জানতে চাইতেন 'আমি সুরে গাইছি তো?' মা সরস্বতী যদি আপনাকে বলে 'আমি সুরে গাইছি তো?' কী জবাব দেবেন? সারাদিন গান গাইলেন, রিহার্সাল করলেন। শুট করলাম। এখন বলছি যখন চোখ দিয়ে জল বেরোচ্ছে, হাতের লোক খাঁড়া হয়ে গিয়েছে। ভগবানের আশীর্বাদ মাথার উপর ছিল বলে এটা হয়েছে, নইলে হতেই পারত না। উনি আমাদের জন্য পুজো গান করলেন, সেটা স্বপ্নের থেকেও বেশি কিছু। আমার জীবনের সবথেকে বড় অ্যাচিভমেন্ট, আশাজিকে দিয়ে পুজোর গান গাওয়াতে পেরেছি আমি।"
শোকের ছায়া প্রায় গোটা বিশ্বে। প্রয়াত আশা ভোঁসলে। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। সম্প্রতি খবর এসেছিল, কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি। ১১ এপ্রিল, শনিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। জানা গিয়েছিল বর্ষীয়ান গায়িকার শারিরীক অবস্থার অবনতি হতেই তাঁকে তড়িঘড়ি আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানে অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাঁর চিকিৎসা করছিলেন। কিন্তু চেষ্টা বিফলে। না ফেরার দেশে আশা ভোঁসলে। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক ড. প্রতীত সামদানি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, জানা গিয়েছিল হার্ট অ্যাটাক নয়, বরং বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। পরিবার সূত্রেই সেই খবর এসেছিল। বর্ষীয়ান গায়িকার নাতনি জানে ভোঁসলে সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, 'আমার ঠাকুমা, আশা ভোঁসলে প্রচণ্ড ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমরা আপনাদের কাছে আমাদের গোপনীয়তা বা ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করছি। তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং আশা করছি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমরা আপনাদের সবটা জানাব।'
'পিয়া তু আব তো আজা’ কিংবা ‘ইয়ে মেরা দিল’-এর মতো গানগুলো সঙ্গীতের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল। তবে কেবল গ্ল্যামার নয়, ‘ইন আঁখো কি মাস্তি’ এবং ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’-এর মতো গানে তাঁর ধ্রুপদী সুরের গভীরতা ও দক্ষতা প্রমাণ করে যে, কেন তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে একচেটিয়া রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর কালজয়ী কণ্ঠেই অমর হয়ে থাকবেন আশা ভোঁসলে।















