গোয়ার ছুটির কিছু ছবি ভাইরাল হতেই আচমকা সোশ্যাল মিডিয়ার তীব্র জল্পনার কেন্দ্রে উঠে এলেন কার্তিক আরিয়ান। নেটদুনিয়ায় দাবি ওঠে, এক তরুণীর সঙ্গে নাকি একই ছুটিতে ছিলেন অভিনেতা। এই তরুণীর নাম করিনা কুবিলিয়ত। শোনা যাচ্ছে, তিনি গ্রিসের বাসিন্দা। কিন্তু বর্তমানে ইংল্যান্ডে থেকে পড়াশোনা করছেন। সূত্রের খবর বলছে যুবতীর বয়স মাত্র ১৮! অর্থাৎ টিনএজার। সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একটি অংশ লক্ষ্য করেন, কার্তিক ও করিনার পোস্ট করা ছুটির ছবিগুলোর মধ্যে আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে। সেই থেকেই শুরু হয় ডেটিং জল্পনা।

 

একটি সূত্র জানিয়েছে,  কার্তিক এবং ওই তরুণী একই সময়ে গোয়ার সেন্ট রেজিস হোটেলে ছিলেন। তবে আরেকটি সূত্র এই প্রসঙ্গে যোগ করেছে, তবে তাঁরা আলাদা আলাদা ঘরেই ছিলেন। অর্থাৎ, একই হোটেলে থাকা মানেই একসঙ্গে ছুটি কাটানো, এই ধারণার কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

 

প্রসঙ্গত, গোয়ার সৈকতে তোলা কার্তিকের ছবির সঙ্গে কারিনার ইনস্টাগ্রাম পোস্ট তুলনা করে নেটিজেনরা দাবি করেন দু’জনের ছবিতে দেখা যাচ্ছে একই বিচ লাউঞ্জার, একই ধরনের তোয়ালের নকশা, এমনকি ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি ভলিবল কোর্টও। এই মিলগুলিকেই হাতিয়ার করে অনেকেই ধরে নেন, দু’জন একসঙ্গেই ছুটি কাটাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়, যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি ওঠে, কার্তিক ও করিনা নাকি কিছু সময়ের জন্য ইনস্টাগ্রামে একে অন্যকে ফলোও করেছিলেন, পরে জল্পনা বাড়তেই দু’জনেই আনফলো করেন।

 

এই ক্রমবর্ধমান গুঞ্জনের মাঝেই কারিনা নিজের ইনস্টাগ্রাম বায়োতে সরাসরি লেখেন, “আমি কার্তিককে চিনিই না!” পরে সেটি বদলে তিনি লেখেন, “আমি কার্তিককে চিনি না, আমি ওর বান্ধবী নয়, আমি নিজের পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে এসেছি.” যদিও এই  পোস্টটি পরে ডিলিট করে দেওয়া হয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা ডেটিং জল্পনা থামাতেই যে এই বার্তা, তা মোটামুটি স্পষ্ট।

 

এদিকে, অনলাইন আলোচনার রেশ গিয়ে পড়ে ট্রোলিংয়েও। কার্তিককে ঘিরে বয়সের ফারাক নিয়ে শুরু হয় কটাক্ষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করা কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, করিনা নাকি লিথুয়ানিয়ান বংশোদ্ভূত ১৮ বছরের এক ছাত্রী, যিনি বর্তমানে ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করছেন। আবার রেডিটের কয়েকজন ব্যবহারকারী তাঁকে গ্রিসের বাসিন্দা বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে এই সমস্ত দাবির সত্যতা বা অনলাইন অনুমানের কোনওটিই স্বাধীনভাবে এখনও যাচাই করা যায়নি।

 

এই পুরো বিতর্কে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি কার্তিক আরিয়ান। কাজের দিক থেকে বলতে গেলে, তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছে ‘তু মেরি ম্যায় তেরা, ম্যায় তেরা তু মেরি’ ছবিতে, যেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন অনন্যা পাণ্ডে। বক্স অফিসে ছবিটি খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। করণ জোহরের ধর্মা প্রোডাকশনের প্রযোজনায় তৈরি এই ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন আদর পুনাওয়ালা, অপূর্ব মেহতা, ভূমিকা তিওয়ারি এবং নমঃ পিকচার্সের শরিন মন্ত্রী কেডিয়া ও কিশোর আরোরাও।

 

সব মিলিয়ে, কয়েকটি মিল থাকা ছবি আর সোশ্যাল মিডিয়ার অনুমান থেকেই তৈরি হওয়া এই জল্পনা আপাতত গুঞ্জনেই সীমাবদ্ধ। কার্তিকের নীরবতাই এখন এই আলোচনার সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন।