কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থার কোটি কোটি সদস্য এখনও অপেক্ষায় রয়েছেন ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ইপিএফ সুদ অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার জন্য। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইপিএফও সেন্ট্রাল বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ৮.২৫ শতাংশ সুদের হার অনুমোদন করেছিল। তবে ঘোষণার দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও অধিকাংশ সদস্যের অ্যাকাউন্টে সুদের অর্থ জমা পড়েনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে—সুদ কবে জমা হবে, কীভাবে হিসাব করা হয় এবং টাকা এসেছে কিনা তা কীভাবে জানা যাবে?
2
11
এই সুদ প্রতি মাসে অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ব্যালেন্সের উপর হিসাব করা হয়। এই ব্যালেন্সের মধ্যে কর্মচারীর অবদান, নিয়োগকর্তার জমা অংশ এবং আগের থেকে থাকা ব্যালেন্স অন্তর্ভুক্ত থাকে।
3
11
সুদের হিসাবের সাধারণ সূত্র হল—মাসিক সুদ = EPF অ্যাকাউন্টের মোট ব্যালেন্স × (বার্ষিক সুদের হার ÷ ১২)। প্রতি মাসে এইভাবে সুদের হিসাব করা হলেও অর্থবছরের শেষে সরকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পর একসঙ্গে সদস্যদের অ্যাকাউন্টে সুদের টাকা জমা করা হয়।
4
11
একটি উদাহরণে বুঝে নিন। ধরা যাক, একজন কর্মচারীর বেসিক বেতন ও মহার্ঘ ভাতা (Basic + DA) মিলিয়ে মাসিক বেতন ২৫,০০০ টাকা। কর্মচারীর EPF অবদান (১২%) = ৩,০০০ টাকা।
5
11
নিয়োগকর্তার EPS-এ অবদান = ১,২৫০ টাকা। নিয়োগকর্তার EPF-এ অবদান = ১,৭৫০ টাকা । অর্থাৎ প্রতি মাসে অ্যাকাউন্টে মোট জমা হচ্ছে ৪,৭৫০ টাকা।
6
11
প্রথম মাসে জমা হওয়া টাকার উপর সুদ কার্যত পরবর্তী মাসের হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হয়। দ্বিতীয় মাসে মোট ব্যালেন্স দাঁড়ায় ৯,৫০০ টাকা। বার্ষিক সুদের হার ৮.২৫ শতাংশ হলে মাসিক সুদের হার হবে ০.৬৮৭৫ শতাংশ।
7
11
সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় মাসের সুদের পরিমাণ হবে প্রায় ৬৫.৩১ টাকা। এইভাবে প্রতি মাসে ব্যালেন্স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুদের পরিমাণও বৃদ্ধি পায় এবং অর্থবছরের শেষে মোট সুদ একসঙ্গে জমা হয়।
8
11
সুদ জমা হতে এত দেরি কেন? সিবিটি সুদের হার অনুমোদন করলেও সেটি কার্যকর করতে কেন্দ্র সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন। এরপর ইপিএফও কোটি কোটি সদস্যের অ্যাকাউন্ট যাচাই, তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং সুদের হিসাব সম্পন্ন করে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু সময় লাগে। তাই সুদ জমার নির্দিষ্ট কোনও তারিখ থাকে না।
9
11
বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের সুদের অর্থ জুন থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সদস্যদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও কিছুটা দেরি হতে পারে, তবে সদস্যদের সম্পূর্ণ সুদের অর্থই দেওয়া হবে।
10
11
অ্যাকাউন্টে সুদ এসেছে কিনা দেখবেন কীভাবে? কয়েকটি সহজ উপায়ে জানতে পারেন সুদের টাকা জমা হয়েছে কিনা। UMANG App-এ লগ ইন করে EPF পাসবুক দেখুন। EPFO পোর্টাল থেকে UAN ব্যবহার করে পাসবুক পরীক্ষা করুন। EPFO-র মিসড কল পরিষেবা ব্যবহার করুন। মোবাইল নম্বর থেকে SMS পরিষেবা ব্যবহার করেও EPF-এর তথ্য জানা যায়।
11
11
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সুদের এন্ট্রি সব সদস্যের পাসবুকে একই দিনে দেখা যায় না। তাই অন্য কারও অ্যাকাউন্টে সুদ জমা পড়লেও নিজের পাসবুকে তা কিছুদিন পরে দেখা যেতে পারে। ফলে অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে নিয়মিত ইপিএফও পোর্টাল বা উমাঙ্গ অ্যাপের মাধ্যমে পাসবুক পরীক্ষা করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।