ভারতের শেয়ারবাজারে দিনের লেনদেন শুরু হয়েছে ওঠানামার মধ্য দিয়ে। বৃহস্পতিবার বাজার খোলার পরই একদিকে যেমন কিছু সময়ের জন্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক, তেমনই পরে লাভ হারিয়ে নিম্নমুখী হয়।
2
10
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের নজর এখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদনের দিকে।
3
10
লেনদেনের শুরুতে এনএসই নিফটি ৫০ সূচক কিছুটা বাড়লেও পরে ০.১ শতাংশ পর্যন্ত নেমে ২৪,০৫৮ পয়েন্টে পৌঁছায়। অন্যদিকে, বিএসই সেনসেক্স দিনের শুরুতে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে ০.১ শতাংশ পর্যন্ত পিছিয়ে প্রায় ৭৭,০৬৬ পয়েন্টে নেমে আসে।
4
10
বাজারের এই অস্থিরতার পিছনে বিশ্বের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের নিম্নমুখী হয়েছে।
5
10
আগের সেশনে দাম বাড়লেও শান্তি প্রক্রিয়া কার্যকর হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৬ ডলারের কাছাকাছি লেনদেন করছে।
6
10
তেলের দাম কমায় ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, কারণ এতে আমদানি ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ কমার সম্ভাবনা থাকে। এশিয়ার অন্যান্য শেয়ারবাজারে অবশ্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
7
10
জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৪৪ শতাংশ বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকও ০.৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ডেও ১.১৬ শতাংশ এগিয়েছে।
8
10
তবে ফেডের নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সুদের হার ৩.৮ শতাংশে থাকতে পারে, যা মার্চ মাসের পূর্বাভাসে ছিল ৩.৪ শতাংশ। ফলে আগামী দিনে সুদের হার কমানোর গতি নিয়ে বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
9
10
ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ ভবিষ্যতের সুদের হার নিয়ে ব্যক্তিগত কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা আরও বেড়েছে। ফেডের সিদ্ধান্তের পর মার্কিন শেয়ারবাজারেও বিক্রির চাপ দেখা যায়।
10
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং মার্কিন সুদের হার সংক্রান্ত সংকেত আগামী কয়েকদিন ভারতীয় শেয়ারবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আপাতত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।