‘পাপারাজ্জি’ অর্থাৎ ছবিশিকারিদের সঙ্গে জয়া বচ্চনের সম্পর্ক যে মোটেই মসৃণ নয়, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। একাধিকবার তাঁদের অনধিকার চর্চা ও আগ্রাসী আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রবীণ অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ছবিশিকারীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই ফের এই প্রসঙ্গে নিজের স্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ অবস্থান নিলেন জয়া বচ্চন। পরিষ্কার ভাষায় জানালেন, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দুর্দান্ত, কিন্তু পাপারাজ্জিদের সঙ্গে সম্পর্ক একেবারে শূন্য।
জয়া বলেন, “বিষয়টা অদ্ভুত। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অসাধারণ। আমি নিজেই তো মিডিয়ারই ফসল। কিন্তু পাপারাজ্জিদের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। ওরা কারা? ওরা কি প্রশিক্ষিত? এরা কি এই দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে? আপনারা এদের মিডিয়া বলেন? আমার বাবা নিজে একজন সাংবাদিক ছিলেন। প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতি আমার অসীম শ্রদ্ধা রয়েছে।”
এরপর পাপারাজ্জিদের কাজের ধরণ নিয়ে আরও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “এই যে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে ওরা- টাইট, সস্তা প্যান্ট পরে, হাতে মোবাইল নিয়ে। ভাবছে মোবাইল থাকলেই যে কারও ছবি তুলতে পারবে, যা খুশি বলতে পারবে। কী ধরনের মন্তব্য করে এরা! এরা কারা? কোথা থেকে আসে? কী শিক্ষা, কোন পরিবেশ থেকে উঠে আসে এরা? এরাই আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবে? শুধুমাত্র ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়াতে পৌঁছতে পারলেই?” প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পাপারাজ্জি প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জয়া বচ্চন। জানান, তিনি কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেই নেই। এই প্রসঙ্গে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন। অভিনেত্রীর কথায়, “দিল্লিতে আমার এক কর্মী আমাকে বলেছিলেন, ‘ম্যাডাম, আমি সোশ্যাল মিডিয়া দেখি না, কারণ আপনি সেখানে সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত মানুষ।’ আমি তাঁকে পাল্টা উত্তরে বলেছিলাম, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কারওর মনে হচ্ছে সে আমাকে ঘৃণা করবে, তাই করছে । তাতে আমি কী করব!” এরপর পাপারাজ্জিদের সঙ্গে তুলনা টানেন ‘ইঁদুর’-এর। বলেন, “আমার মতে, তোমরা ইঁদুরের মতো! মোবাইল ক্যামেরা হাতে কারও ব্যক্তিগত জায়গায় ঢুকে পড়ো।”
কথোপকথনের শেষদিকে এমন কথাও ওঠে যে অনেক তারকাই আছেন যাঁরা বিমানবন্দরে পাপারাজ্জিদের ডেকে পাঠান, নিজেদের ছবি তোলাবেন বলে। তারকাদের ছবি তোলানোর প্রবণতা নিয়েও সমালোচনা করেন জয়া বচ্চন। একজন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি ওই অভিনেতাদের চিনি না। আমার নাতি আগস্ত্য নন্দাও তো তরুণ। ওর ছবি সামনে আসছে। ও-ও সোশ্যাল মিডিয়াতে নেই। সবাই ওকে খ্যাপায়, ‘তোমাকে তো এবার সমাজমাধ্যমে যোগ দিতেই হবে।’ ও তার জবাবে বলে, ‘দেখা যাবে।’ কিন্তু যদি নিজের ছবি তোলানোর জন্য নিজেকেই বিমানবন্দরে ফটোগ্রাফার ডাকতে হয়, তাহলে আপনি কেমন তারকা?”
