অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর বর্তমানে তাঁর পেশাদার জীবনের অন্যতম সেরা সময়ে রয়েছেন। একের পর এক বড় বাজেটের সিনেমা এবং সাহসী অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বলিউডে জায়গা করে নিয়েছেন। সম্প্রতি জাহ্নবী কাপুর এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন যা অনেক পরিবারেই প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়। অতিরিক্ত মদ্যপানের প্রভাব। সমাজে এই ধরনের পরিস্থিতি কতটা সচরাচর শোনা যায় তা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ অতিরিক্ত মদ্যপানের পারিবারিক অশান্তির অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেও, এটি মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা সীমিতই থেকে যায়।
সচেতনতা তৈরি করতে জাহ্নবী জানান যে, এক্ষেত্রে তাঁর কাজের মূল লক্ষ্য হল মানুষের কাছে সঠিক ধরনের তথ্য এবং সহায়তা সহজলভ্য করা। মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা ‘আমাহা’-র সঙ্গে যুক্ত থাকার অংশ হিসেবে, তিনি আচরণগত ধরন এবং কার্যকর প্রতিক্রিয়াগুলো আরও ভালভাবে বোঝার জন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।
অভিনেত্রীর কথায়, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটি আমি শিখেছি তা হল, কেউ যখন প্রলাপের মধ্যে থাকে বা নেশার প্রভাবে থাকে, তখন তার মুখোমুখি হওয়া প্রায় কখনওই উচিত নয়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এমন পরিস্থিতিতে দোষারোপের মনোভাব নিয়ে এগোলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বছরের পর বছর ধরে অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর এমন একটি বিষয় লক্ষ্য করেছেন যা নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলা হয়। আর তা হল, সামাজিক জীবনে মদ্যপান ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে উঠলেও, ঠিক কোন পর্যায়ে এসে এটি চিকিৎসাগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সে সম্পর্কে সচেতনতা প্রায় নেই বললেই চলে।
অভিনেত্রীর মতে, মদ্যপানে আসক্তি, যা স্নায়বিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং আবেগগত দিক সহ এমন একটি অবস্থা যা ভারতে প্রতি পাঁচজন মদ্যপায়ীর মধ্যে প্রায় একজনকে প্রভাবিত করে। তা সত্ত্বেও, এটি দেশের সবচেয়ে কম আলোচিত মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই সমস্যায় জর্জরিত বেশিরভাগ মানুষই তাদের অভিজ্ঞতাকে পেশাদারী সহায়তা ছাড়াই সমাধানের চেষ্টা করেন।
জাহ্নবী এই পরিস্থিতি বদলাতে তাঁর প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলস্বরূপ তৈরি হয়েছে 'অফ দ্য রকস'। এটি এমন একটি সুসংগঠিত, সচেতনতামূলক উদ্যোগ যা অ্যালকোহল আসক্তি নিয়ে জনমনে প্রচলিত আলোচনাকে নীরবতা ও বিচার-বিশ্লেষণ থেকে সরিয়ে সচেতনতা এবং চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এবিষয়ে জাহ্নবী বলেন, "অ্যালকোহল আসক্তি একটি বাস্তব সমস্যা, এটি চিকিৎসাগত এবং এটি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে প্রভাবিত করে। 'অফ দ্য রকস'-এর উদ্দেশ্য হল মানুষকে বোঝানো যে বিষয়টিতে সাহায্য পাওয়া সম্ভব।"
জাহ্নবী এমন একজন অংশীদার খুঁজছিলেন যা নিশ্চিত করবে 'অফ দ্য রকস' শুধু সচেতনতাই বাড়াবে না, মানুষকে সঠিক চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত করবে। সেই অংশীদার হল আমাহা। এটি ভারতের শীর্ষস্থানীয় একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা, যা এই বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অবশ্যই প্রমাণ-ভিত্তিক, ব্যক্তি-কেন্দ্রিক এবং সহজলভ্য হতে হবে। ২০০ জনেরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের একটি ক্লিনিক্যাল দল এবং বিশ্বব্যাপী ৬০ লক্ষেরও বেশি ব্যক্তিকে পরিষেবা দেওয়ার মাধ্যমে, আমাহা এমন এক পরিসরে কাজ করে যা দেশের খুব কম মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থাই করতে পারে।
















